রাজপাট নেই, নেই রাজকোষের জৌলুস। আছে শুধু পাঁচ শতাব্দীর বেশি সময় ধরে চলে আসা এক অটুট পরম্পরা। আর সেই পরম্পরাকে আঁকড়ে ধরেই এবার ৫১৭ বছরে পা দিতে চলেছে জলপাইগুড়ির বৈকুণ্ঠপুর রাজবাড়ির দুর্গাপুজো। মহালয়া আসতে এখনও কিছুদিন বাকি, কিন্তু রাজবাড়ির অন্দরে ইতিমধ্যেই সাজো সাজো রব।
শুধু বয়সের বিচারেই নয়, এই পুজো আলাদা তার আচার ও প্রতিমা বৈশিষ্ট্যেও।
জনশ্রুতি অনুযায়ী, এই পুজোর সূচনা করেছিলেন কোচবিহারের রাজা বিশ্ব সিংহ এবং বৈকুণ্ঠপুর রাজপরিবারের শিষ্য সিংহ। কালিকাপুরাণ মেনে আজও সেই প্রাচীন রীতি অক্ষরে অক্ষরে পালন করা হয় এখানে। রাজবাড়ির দুর্গা একা নন। তাঁর সঙ্গে থাকেন লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্তিক, গণেশ তো বটেই, থাকেন তাঁদের বাহন সিংহ ও বাঘও। পাশাপাশি পুজো পান জয়া-বিজয়া, ব্রহ্মা, বিষ্ণু, মহেশ্বর এবং মহামায়া চণ্ডী।

রাজপুরোহিত শিবু ঘোষাল জানান, প্রতিমার রঙের কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে। মহালয়ার পুণ্যতিথিতে হবে দেবীর চক্ষুদান। ওইদিন সকালেই রাজপরিবারের সদস্য প্রণত কুমার বসু তর্পণ করবেন। রীতি অনুযায়ী মহালয়ার রাতেই হবে কালীপুজো এবং দেবীকে নিবেদন করা হবে আমিষ ভোগ।
পুজোর নির্ঘণ্টও বাঁধা প্রাচীন নিয়মে। প্রতিপদে ঘট স্থাপনের মধ্য দিয়ে সূচনা হবে দেবীপক্ষের। চতুর্থীতে দেবীকে পরানো হবে নতুন বস্ত্র। এরপর ষষ্ঠী থেকে দশমী পর্যন্ত চলবে শাস্ত্রীয় পুজো।
স্থানীয়দের কাছে এই পুজোর সবচেয়ে বড় আকর্শন দশমীর দিন। বিসর্জন ও সিঁদুর খেলা দেখতে রাজবাড়ি চত্বরে ভিড় জমান হাজার হাজার মানুষ। রাজা নেই, কিন্তু রাজবাড়ির দুর্গা আজও জলপাইগুড়ির আবেগ, ইতিহাস আর সম্প্রীতির প্রতীক।

