পূর্ব শত্রুতার জেরে আগরতলা আমতলী থানাধীন কাঁঠালতলী এলাকায় গভীর রাতে সমীর দাস (৩৪) নামে এক বিবাহিত যুবককে ধারালো অ*স্ত্র দিয়ে কুপিয়ে নৃশংসভাবে খু*ন করা হয়েছে। ঘটনার পর এলাকা জুড়ে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী অভিযুক্ত স্বপন সূত্রধরের বাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এলাকায় বিশাল পুলিশ ও ত্রিপুরা স্টেট রাইফেলস বাহিনী মোতায়েন করতে হয়েছে। এদিকে ঘটনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মূল মাস্টারমাইন্ড স্বপন সূত্রধর ওরফে সপ্পাকে আগরতলা ইন্দ্রনগর এলাকা থেকে গ্রেফতার করেছে নিউ ক্যাপিটাল কমপ্লেক্স থানার পুলিশ।

আমতলী থানার কাঁঠালতলী এলাকার বাসিন্দা সমীর দাসের সাথে একই এলাকার স্বপন সূত্রধরের দীর্ঘদিন ধরে বিবাদ চলছিল। গভীর রাতে সমীর দাস নিজের স্কুটি নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন।কাঁঠালতলী শনি মন্দিরের সামনে আসতেই স্বপন সূত্রধর তাকে স্কুটি থেকে নামিয়ে ধারালো অ*স্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করে। ঘটনাস্থলেই র*ক্তা*ক্ত অবস্থায় প্রাণ হারান সমীর। স্থানীয়রা তাঁর দেহ মাটিতে পড়ে থাকতে দেখে চিৎকার শুরু করলে পরিবারের লোকজন ছুটে আসেন। খবর পেয়ে আমতলী থানার ওসি পরিতোষ দাস বিশাল পুলিশ বাহিনী নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান। রাতেই ফরেনসিক টিম ও ডগ স্কোয়াড এনে নমুনা সংগ্রহ করা হয়। এরপর মৃ*তদেহ ময়নাতদন্তের জন্য আগরতলা হাঁপানিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে ঘটনার জানাজানি হতেই কাঁঠালতলী এলাকায় পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে। উত্তেজিত জনতা অভিযুক্ত স্বপনের বাড়িতে চড়াও হয়ে ভাঙচুর শুরু করে, যা একসময় পুলিশের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। পরে অতিরিক্ত বাহিনী নামিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। ঘটনার পর পালিয়ে যাওয়া মূল অভিযুক্ত স্বপন সূত্রধরকে অবশেষে আগরতলা নিউ ক্যাপিটাল কমপ্লেক্স থানার পুলিশ ইন্দ্রনগর এলাকা থেকে জালে তোলে। সমীর দাসের পরিবার ও এলাকাবাসী ঘাতকের দৃষ্টান্তমূলক কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

