ত্রিপুরায় আর্থিক কেলেঙ্কারিতে নাম জড়ালো টি আর এল এন কর্মীর।
বিডিও-র স্বাক্ষর ও সরকারি সিল জাল করে প্রতারণার অভিযোগ। ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে
ত্রিপুরা খোয়াই জেলা তেলিয়ামুড়া মহকুমার মহারানীপুর এলাকায়। প্রায় ২০ কোটি টাকার আর্থিক প্রতারণারর অভিযোগ সামনে এসেছে৷
এই কেলেঙ্কারির কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ত্রিপুরা গ্রামীণ জীবিকা মিশন (TRLM)-এর সঙ্গে যুক্ত মাস্টার বুক কিপার ঝুমা চৌধুরী। অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে তিনি সাধারণ মানুষকে ১০ থেকে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত উচ্চ হারে লাভের প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন স্বনির্ভর গোষ্ঠী (SHG) এবং বহু ব্যক্তির কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ সংগ্রহ করেছেন।

কিন্তু সবচেয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ হলো, এই প্রতারণা চক্র সচল রাখতে তেলিয়ামুড়া ব্লকের সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিক (বিডিও)-এর স্বাক্ষর এবং সরকারি সিলমোহর দেদার জাল করা হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অবিশ্বাস্য রকমের চড়া সুদের লোভ দেখিয়ে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলাদের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছিল। দীর্ঘদিন ধরে এই প্রক্রিয়া চললেও সম্প্রতি লভ্যাংশ এবং আসল টাকা ফেরত পাওয়া নিয়ে সমস্যা তৈরি হয়। গ্রাহকদের মনে সন্দেহ দানা বাঁধতেই গোটা বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। নিজেদের প্রতারিত বুঝতে পেরে ভুক্তভোগীদের একাংশ অবিলম্বে তেলিয়ামুড়া ব্লকের বিডিও বিপ্লব আচার্যের দ্বারস্থ হন এবং একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। লিখিত অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে তেলিয়ামুড়া ব্লকের বিডিও বিপ্লব আচার্য সাংবাদিকদের জানান, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুতর। অভিযোগ পাওয়ার পরপরই তিনি ঘটনাটি খোয়াই জেলা প্রশাসনের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের নজরে এনেছেন। জেলা শাসকের নির্দেশ অনুযায়ী এই বিষয়ে পরবর্তী আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে ঘটনার তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।এই ঘটনায় সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠছে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে। দীর্ঘ সময় ধরে কীভাবে একটি সরকারি ব্লকের সিলমোহর এবং খোদ বিডিও-র স্বাক্ষর জাল করে বিভিন্ন নথিপত্র ব্যবহার করা হলো, অথচ তা প্রশাসনের নজরে এলো না—তা নিয়ে জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এত বড় অঙ্কের কেলেঙ্কারি একা ঝুমা চৌধুরীর পক্ষে করা সম্ভব? প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, এর পেছনে কোনো বড় প্রশাসনিক আধিকারিক বা প্রভাবশালী চক্রের হাত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা অত্যন্ত জরুরি।

