নদিয়া: গোটা রাজ্যের সাথে সাথে তীর্থ নগরী নবদ্বীপ ও মায়াপুর জুড়ে চলছে রথযাত্রার বিশেষ অনুষ্ঠান। নিজ গ্রহ ছেড়ে জগন্নাথ দেব মাসির বাড়িতে ভালো-মন্দ খেয়েদেয়ে তার দিন কাটছে। উৎসবমুখর দিনে এক অনন্য নজিরের সাক্ষী হল নদিয়ার মায়াপুর। ‘মায়াপুর ঠাকুর ভক্তি বিনোদ ইনস্টিটিউট’ বিদ্যালয়ে রথের পরের দিন শিক্ষক-শিক্ষিকাদের বিশেষ উদ্যোগে ছাত্রছাত্রীদের জন্য মিড ডে মিলে পরিবেশন করা হল প্রথাগত মহাপ্রসাদ ৫৬ ভোগ’। সম্পূর্ণ নিরামিষ এই বিশাল ভোজের আয়োজনকে কেন্দ্র করে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এক উৎসবমুখর এবং ভক্তিপূর্ণ পরিবেশের সৃষ্টি হয়।এই ভোগে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের ফল জগন্নাথের প্রিয় কাঠাল, খাজা, মালপোয়া, পাটিসাপটা, বিভিন্ন ধরনের মিষ্টি, পুষ্পান্ন পরোমান্ন থেকে শুরু করে একাধিক রকমের ভাজা শাক ও তড়িতরকারি!বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, রথযাত্রার পরের দিন জগন্নাথ দেবের উদ্দেশ্যে নিয়মমাফিক পুজো অর্চনা ও নিবেদনের পর এই মহাপ্রসাদ বিতরণের আয়োজন করা হয়। স্কুলের প্রধান শিক্ষক নিত্যগোপাল মন্ডল জানান, বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষিকাদের যৌথ আর্থিক সহযোগিতা এবং সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমেই এই বৃহৎ কর্মকাণ্ড সম্পন্ন হয়েছে। শিক্ষকরা প্রত্যেকেই স্বতঃস্ফূর্তভাবে এই আয়োজনে নিজেদের কন্ট্রিবিউশন বা অবদান রেখেছেন। তিনি আরও জানান যে, বিদ্যালয়ে প্রায় ৪০০ জনের এই বিশেষ খাবারের আয়োজন করা হয়েছিল, যেখানে স্কুলের ছাত্রছাত্রী থেকে শুরু করে শিক্ষক-শিক্ষিকা, শিক্ষাকর্মী ও আমন্ত্রিত অতিথিরাও উপস্থিত ছিলেন। বর্তমানে এই স্কুলে মোট ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা প্রায় ১১৭৮ জন এবং শিক্ষকের সংখ্যা ৩৬ জন। বছরের অন্যান্য দিনেও এখানে সম্পূর্ণ নিরামিষ রান্না হলেও, রথের পর এই ৫৬ ভোগের বিশেষ আয়োজন তাদের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য।


বিদ্যালয়ের এই আয়োজন প্রসঙ্গে নদিয়ার নর্থ সার্কেলের স্কুল পরিদর্শক তথা বিদ্যালয়ের প্রশাসক জানবাস শেখ বলেন, “এই ধরনের বিশেষ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য হল সমস্ত ছাত্রছাত্রীদের বিদ্যালয়ের সঙ্গে আরও বেশি করে সম্পৃক্ত বা ইনভলভ করা। এত পদের লোভনীয় খাবারের আয়োজন দেখে পড়ুয়ারা উৎসাহিত হয়, যা তাদের বিদ্যালয়মুখী করতে সাহায্য করে।” মিড ডে মিলের নিয়মিত নয় জন রাঁধুনিই ভোর ৫:০০ টা থেকে অক্লান্ত পরিশ্রম করে এই ৫৬ টি পদের রান্না সম্পন্ন করেন। রাঁধুনিদের পক্ষে অসীমা বিশ্বাস অত্যন্ত আনন্দের সাথে জানান যে, প্রতি বছরই তারা এই বিশেষ রান্নার দায়িত্ব পালন করেন এবং ছাত্রছাত্রীদের মুখে এই মহাপ্রসাদ তুলে দিতে পেরে তারা অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত। সব মিলিয়ে, মায়াপুরের এই বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের এমন অভিনব উদ্যোগ ছাত্র ও শিক্ষক সম্পর্কের মেলবন্ধনে এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করল।

By EXTV

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *