টানা বর্ষণের জেরে ভেঙে পড়ল গ্রামবাসীদের নিজস্ব উদ্যোগে তৈরি একটি অস্থায়ী বাঁশের সাঁকো। এর ফলে চূড়ান্ত দুর্ভোগের মুখে পড়েছেন ধূপগুড়ি মহকুমার গধেয়ারকুঠি গ্রাম পঞ্চায়েতের চচ্চড়াবাড়ি এলাকার হাজার হাজার মানুষ।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ওই এলাকার ‘দই খাওয়া সেতুটি’ দীর্ঘদিন ধরেই জরাজীর্ণ অবস্থায় ছিল। প্রায় আট মাস আগে পুরনো সেতুটি ভেঙে সেখানে নতুন পাকা সেতু নির্মাণের কাজ শুরু করে প্রশাসন। কিন্তু বিধানসভা নির্বাচনী প্রক্রিয়ার জেরে দীর্ঘদিন সেই কাজ থমকে থাকে। বর্তমানে পুনরায় কাজ শুরু হলেও, তার গতি অত্যন্ত ধীর বলে অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের।এই পরিস্থিতিতে গত কয়েক মাস ধরে এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল

রাখতে গ্রামবাসীরা নিজেরাই চাঁদা তুলে একটি অস্থায়ী বাঁশের সাঁকো তৈরি করেছিলেন। স্কুল-কলেজের পড়ুয়া থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ সকলেই এই সাঁকোর ওপর ভরসা করে যাতায়াত করছিলেন। কিন্তু সাম্প্রতিক টানা বৃষ্টিতে জলস্তর বৃদ্ধি পাওয়ায় সেই অস্থায়ী সাঁকোটিও ভেঙে নদীগর্ভে তলিয়ে যায়।সাঁকোটি ভেঙে যাওয়ায় বর্তমানে কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে চচ্চড়াবাড়ির বিস্তীর্ণ অঞ্চল। সবথেকে বেশি সমস্যায় পড়েছেন স্কুলের ছাত্রছাত্রী, আইসিডিএস কর্মী, গর্ভবতী মহিলা এবং মুমূর্ষু রোগীরা। নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজকর্ম ও জরুরি চিকিৎসার জন্য এখন দীর্ঘ পথ ঘুরে যাতায়াত করতে হচ্ছে গ্রামবাসীদের।এই ঘটনায় প্রশাসনের উদাসীনতার বিরুদ্ধে ক্যামেরার সামনে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের স্পষ্ট দাবি, অবিলম্বে পাকা সেতু নির্মাণের কাজ শেষ করতে হবে এবং যুদ্ধকালীন তৎপরতায় বিকল্প যাতায়াতের ব্যবস্থা করতে হবে। দ্রুত কোনো পদক্ষেপ না করা হলে আগামী দিনে মহকুমা শাসক বা পঞ্চায়েত দপ্তরের সামনে বৃহত্তর আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।

