রাজ্য সরকার যেখানে রাস্তা-ঘাট পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখা এবং যানবাহন নিয়ম মেনে পার্কিং করার বিষয়ে সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে উদ্যোগী হয়েছে, সেখানে অসম-বাংলা সীমান্ত সংলগ্ন ২৭ নম্বর জাতীয় সড়কের ধারে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে পণ্যবাহী ট্রাক দাঁড় করিয়ে রাখার ঘটনা দেখা যাচ্ছে।
কোচবিহার জেলার তুফানগঞ্জ ২ নম্বর ব্লকের নাজিরান দেওতিখাতা এলাকার সেলস ট্যাক্স সংলগ্ন অংশে প্রতিদিনই বহু দূরপাল্লার পণ্যবাহী ট্রাক জাতীয় সড়কের এক পাশে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। অথচ রাস্তায় সেখানে কোনও নির্দিষ্ট পার্কিং ব্যবস্থা নেই। এর ফলে পথচলতি সাধারণ মানুষ ও অন্যান্য যানবাহন চালকদের নানা সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে বলে অভিযোগ।

সম্প্রতি রাজ্যের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা, রাস্তায় আবর্জনা না ফেলা এবং যেখানে পার্কিং নিষিদ্ধ সেখানে গাড়ি না রাখার বিষয়ে কড়া বার্তা দেন। এমনকি আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে রাস্তায় আবর্জনা ফেললে জরিমানার কথাও জানান তিনি। সেই প্রেক্ষিতেই জাতীয় সড়কের ধারে এই অবৈধ ট্রাক পার্কিং নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
তবে এই ট্রাক দাঁড়িয়ে থাকার সঙ্গে এলাকার বহু ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর জীবিকাও জড়িয়ে রয়েছে। রাস্তার দুই ধারে গড়ে ওঠা ছোট ছোট দোকানপাট মূলত ট্রাকচালক ও খালাসিদের উপর নির্ভর করেই ব্যবসা চালায়। ফলে ট্রাক না দাঁড়ালে তাঁদের ব্যবসায় বড়সড় প্রভাব পড়বে বলেও আশঙ্কা স্থানীয়দের একাংশের।
এ বিষয়ে স্থানীয় বিজেপি জেলা নেতা দীনেশ বর্মন বলেন, “পার্কিংয়ের ব্যবস্থা না থাকা সত্ত্বেও জাতীয় সড়কে গাড়ি দাঁড় করানো অবশ্যই অবৈধ। তবে জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের রাস্তার পাশে পর্যাপ্ত ফাঁকা জায়গা রয়েছে। সেখানে নির্দিষ্ট পার্কিং জোন তৈরি করা হোক, যাতে ট্রাকচালকরা নিয়ম মেনে গাড়ি রাখতে পারেন। একই সঙ্গে রাস্তার ধারের ছোট ব্যবসায়ীদের জীবিকাও বজায় থাকে।”

