কোলে দুই বছরের কম বয়সী এক শিশু। মায়ের বয়স মাত্র ১৭। মামির জোর জবরদস্তিতে নাবালিকা বয়সেই বসতে হয়েছিল বিয়ের পিঁড়িতে। কিন্তু জীবনের এই চরম প্রতিকূলতা এবং মাতৃত্বের গুরুদায়িত্বও দমাতে পারেনি তার পড়াশোনার অদম্য ইচ্ছাকে। সমস্ত বাধা পেরিয়ে আবারও বই-খাতা হাতে স্কুলে ফেরার স্বপ্ন দেখছে এক নাবালিকা মা। এবার তার সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে এবং শিক্ষার আলোয় ফিরিয়ে আনতে যৌথভাবে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিল ত্রিপুরা সিপাহীজলা জেলার চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটি (CWC) এবং ডিস্ট্রিক্ট চাইল্ড প্রটেকশন ইউনিট (DCPU)। ঘটনাটি ঘটেছে বক্সনগর আর ডি ব্লকের অন্তর্গত মাণিক্যনগর বাজারপাড়া অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র এলাকায়। জানা গেছে, ওই নাবালিকাকে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক বিয়ে দিয়েছিল তার আপন মামি। বিয়ের পর অত্যন্ত কম বয়সে মা হতে বাধ্য হয় সে। বর্তমানে তার কোলে রয়েছে দুই বছরেরও কম বয়সী এক কন্যাসন্তান। কিন্তু

জীবনের এই কঠিন পরিস্থিতি ও অন্ধকারের মাঝেও পড়াশোনা করার অদম্য জেদ বজায় রেখেছে ওই নাবালিকা মা। মাণিক্যনগর বাজারপাড়া অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র এলাকায় বিশেষ পরিদর্শনে যান সিপাহীজলা চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটি এবং জেলা শিশু সুরক্ষা ইউনিটের আধিকারিকরা। সেখানে এই নাবালিকা মায়ের করুণ পরিস্থিতি এবং একই সাথে তার পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার প্রবল ইচ্ছার কথা জানতে পারেন তারা। নাবালিকা মায়ের এই অদম্য মানসিকতাকে সম্মান জানিয়ে তৎক্ষণাৎ তার পড়াশোনার দায়িত্ব নেওয়ার আশ্বাস দেয় চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটি। তাঁরা জানান, নাবালিকার সন্তানটির লালন-পালন নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাকে যেন পুনরায় বিদ্যালয়ের আঙিনায় ফিরিয়ে আনা যায়, তার জন্য সব ধরনের আইনি ও সামাজিক সাহায্য প্রদান করা হবে। গোটা ত্রিপুরা জুড়ে বাল্যবিবাহ এবং কম বয়সে মাতৃত্ব রোধে প্রশাসনের পক্ষ থেকে মিশন সংকল্প -এর মতো বিভিন্ন সচেতনতামূলক কর্মসূচি চালানো হচ্ছে। এই আবহে এই নাবালিকা মায়ের ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াই সমাজকে এক নতুন বার্তা দিচ্ছে। জোর করে বিয়ে দিয়ে দিলেও যে শিক্ষার অধিকার কেড়ে নেওয়া যায় না, তা প্রমাণ করল বক্সনগরের এই নাবালিকা মেয়ে। প্রশাসনের এই মানবিক উদ্যোগে খুশি স্থানীয় সচেতন মহল। অনেকেই আশা করছেন, এই উদ্যোগ দেখে আরও বহু সুবিধাবঞ্চিত শিশু ও কিশোরী নতুন করে বাঁচার প্রেরণা পাবে।

