শনিবার এক কলেজ ছাত্রীর ঝুলন্ত মৃতদেহ উদ্ধারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়াল আলিপুরদুয়ার শহরের আনন্দনগর এলাকায়। মৃত ছাত্রীর নাম সুচরিতা সরকার বয়স ১৮ বছর।তিনি আলিপুরদুয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়া ছিলেন এবং আনন্দনগর এলাকার একটি ভাড়া বাড়িতে থাকতেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সোস্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে গোপী বর্মন নামে এক যুবকের সঙ্গে পরিচয় হয়েছিল সুচরিতার। পরবর্তীতে তাঁদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। শনিবার সকালে শেষবারের মতো প্রেমিক গোপীর সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলেন সুচরিতা। এর পরেই তিনি চরম পথ বেছে নেন বলে অনুমান।এদিন দুপুর নাগাদ গোপী বর্মন ওই ছাত্রীর ভাড়া বাড়িতে গিয়ে তাঁকে ডাকাডাকি করেন।

ভেতর থেকে কোনও সাড়া না পেয়ে সন্দেহ হওয়ায় তিনি প্রতিবেশীদের ডেকে আনেন। এরপর ঘরের ভেতরে উঁকি মারতেই ফ্যানের সঙ্গে ওড়না দিয়ে সুচরিতাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান তাঁরা। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় আলিপুরদুয়ার থানার পুলিশ। ঘরের দরজা ভেঙে ছাত্রীর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করার পাশাপাশি একটি চিরকুট বা সুইসাইড নোট উদ্ধার করেছে পুলিশ। জানা গিয়েছে, উদ্ধার হওয়া চিরকুটে ওই ছাত্রী একদিকে তাঁর প্রেমিকের প্রতি একরাশ বিষাদ উগরে দিয়েছেন, অন্যদিকে নিজের বাবা-মায়ের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন।প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, প্রেমিকের সঙ্গে তীব্র মনমালিন্য ও অভিমানের জেরেই এই কাণ্ড ঘটিয়েছেন তরুণী। পুলিশ মৃতদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। এই মর্মান্তিক আত্মহত্যার পেছনে অন্য কোনও কারণ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে আলিপুরদুয়ার থানার পুলিশ। ঘটনার জেরে গোটা এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

