বীরভূম জেলার মল্লারপুর থানার অন্তর্গত ভেলিয়ান গ্রাম যেন আজ ‘পিপাসার দ্বীপ’। প্রায় দেড় বছর ধরে এই গ্রামে পানীয় জলের হাহাকার চলছে। বহু বাড়ির কল বহুদিন ধরে বিকল, কিন্তু আজও কার্যকর কোনো সমাধান আসেনি।
বাড়িতে জলের কল থাকলেও, তার থেকে এক ফোঁটা জলও পড়ে না। ফলে গ্রামবাসীদের ভরসা একটাই—গ্রামের একটি পুকুর। রান্না, খাওয়া, এমনকি পান করার জলও সেখান থেকেই সংগ্রহ করতে হচ্ছে। অথচ সেই জল যথেষ্ট দূষিত ও স্বাস্থ্যহানিকর।
বিশেষ করে মহিলাদের অবস্থা করুণ—প্রতিদিন কাঁধে বালতি তুলে দূরের পুকুর থেকে জল আনছেন তাঁরা। শিশু ও বৃদ্ধরাও এই সমস্যায় চরম ভোগান্তির শিকার।

গ্রামবাসীদের অভিযোগ, নির্বাচনের সময় প্রতিশ্রুতির বন্যা বইয়ে দেওয়া জনপ্রতিনিধিরা এখন বেপাত্তা।
‘জল কোনও বিলাসিতা নয়, এটা মৌলিক অধিকার’— এই স্লোগানকে সামনে রেখে আগামী দিনে বৃহত্তর গণআন্দোলনের পথে হাঁটার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তাঁরা।এই বিষয়ে কানাচি গ্রামের প্রধান বলেন জলস্তরের গভীরে চলে গিয়েছে, সে কারণে ভেলিয়ানে সংকট দীর্ঘদিনের। তাঁর আশ্বাস, আগামী ৬ মাসের মধ্যেই টেকনিক্যাল সমাধান করা হবে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে।
তবে প্রশ্ন উঠছে—যেখানে আজও মানুষকে দূষিত জল পান করে বেঁচে থাকতে হয়, সেখানে শুধুমাত্র আশ্বাসে কি পিপাসা মেটে?

