ডায়মন্ড হারবার:দক্ষিণ ২৪ পরগনার ডায়মন্ড হারবার বিধানসভা কেন্দ্রে নির্বাচনী উত্তাপ ক্রমশ চরমে উঠছে। বৃহস্পতিবার সকালে সেই উত্তাপ নতুন মাত্রা পেল, যখন প্রচারে বাধার অভিযোগ তুলে রাস্তায় নেমে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন বিজেপি প্রার্থী দীপক হালদার এবং তাঁর সমর্থকেরা। ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে গোটা এলাকায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সকালে ডায়মন্ড হারবার বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত মানখন্ড এলাকায় নির্বাচনী প্রচারে যান বিজেপি প্রার্থী দীপক হালদার। অভিযোগ, সেখানেই তাঁর প্রচারে বাধা দেয় শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মী-সমর্থকেরা। শুধু বাধাই নয়, তাঁকে ঘিরে বিক্ষোভও দেখানো হয় বলে দাবি বিজেপি প্রার্থীর। এই ঘটনায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এলাকায় এবং পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল আকার ধারণ করে।


দীপক হালদারের অভিযোগ, নির্বাচনী প্রচার চালাতে গেলে বারবার বাধার সম্মুখীন হতে হচ্ছে তাঁকে এবং তাঁর দলীয় কর্মীদের। তিনি আরও দাবি করেন, বিজেপি কর্মীরা এলাকায় দেয়াল লিখন করতেও পারছেন না। তাদের বাধা দেওয়া হচ্ছে এবং এই কাজে পুলিশ প্রশাসনের একাংশ শাসকদলকে মদত দিচ্ছে বলেও গুরুতর অভিযোগ তোলেন তিনি। তাঁর কথায়, “গণতান্ত্রিক পরিবেশে যেখানে সকল দলের সমান সুযোগ থাকার কথা, সেখানে বিরোধী দল হিসেবে আমাদের কার্যত কোণঠাসা করে রাখা হচ্ছে।”
এই ঘটনার প্রতিবাদে ক্ষোভে ফেটে পড়েন বিজেপি কর্মী-সমর্থকেরা। বৃহস্পতিবার সকালেই ডায়মন্ড হারবার প্রশাসন ভবনের কাছে ১১৭ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভে সামিল হন তাঁরা। রাস্তার উপর আগুন জ্বালিয়ে অবরোধ সৃষ্টি করা হয়, যার ফলে ওই গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যান চলাচল সম্পূর্ণভাবে ব্যাহত হয়। দীর্ঘক্ষণ ধরে গাড়ির লাইন পড়ে যায় এবং চরম ভোগান্তির শিকার হন সাধারণ মানুষ।
বিক্ষোভের নেতৃত্ব দেন স্বয়ং বিজেপি প্রার্থী দীপক হালদার। তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বহু দলীয় কর্মী ও সমর্থক। বিক্ষোভ মঞ্চ থেকেই তিনি সরাসরি নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাঁর অভিযোগ, নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষভাবে কাজ করছে না এবং বিরোধী দলের প্রার্থীদের নিরাপত্তা ও গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষা করতে ব্যর্থ হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, “আমরা বারবার প্রশাসনের কাছে নিরাপত্তা চেয়েছি, কিন্তু কোনো কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ফলে আমাদের বাধ্য হয়েই রাস্তায় নামতে হয়েছে।” নির্বাচনী প্রচারে পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর দাবি, পুলিশ নিরপেক্ষভাবে কাজ না করে শাসকদলের পক্ষ নিচ্ছে, যা গণতন্ত্রের পক্ষে অত্যন্ত বিপজ্জনক।
এদিকে, পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠতে থাকলে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় ডায়মন্ড হারবার থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী। পুলিশ এসে প্রথমে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করে এবং পরে অবরোধ তুলে দেওয়ার উদ্যোগ নেয়। দীর্ঘ আলোচনা এবং বোঝানোর পর অবশেষে অবরোধ উঠে যায় এবং ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয় যান চলাচল।
যদিও এই ঘটনায় এখনো পর্যন্ত তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি, তবে রাজনৈতিক মহলে এই ঘটনাকে ঘিরে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং সংঘাতের আশঙ্কা।
সাধারণ মানুষের একাংশের মতে, এই ধরনের রাজনৈতিক সংঘর্ষ এবং অবরোধে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়তে হয় সাধারণ মানুষকেই। হঠাৎ করে রাস্তা অবরোধ হওয়ায় অফিসগামী মানুষ থেকে শুরু করে জরুরি পরিষেবার গাড়িও সমস্যার সম্মুখীন হয়।
সব মিলিয়ে, ডায়মন্ড হারবারের এই ঘটনা নির্বাচনী আবহে নতুন করে উত্তেজনার পারদ বাড়িয়ে দিল। এখন দেখার, নির্বাচন কমিশন এই অভিযোগগুলিকে কীভাবে দেখে এবং আগামী দিনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে।

By EXTV

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *