মহিলাদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে এবং প্রযুক্তির সহায়তায় আইনি পরিষেবা আরও সহজলভ্য করে তুলতে এক বড় পদক্ষেপ নেওয়া হলো ত্রিপুরায়। বৃহস্পতিবার আগরতলার একটি বেসরকারি হোটেলে জাতীয় মহিলা কমিশন এবং ত্রিপুরা রাজ্য মহিলা কমিশনের যৌথ উদ্যোগে ‘স্টলকিং’ বিষয়ক একটি গুরুত্বপূর্ণ সচেতনতা কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। একই মঞ্চ থেকে ‘ত্রিপুরা কমিশন ফর ওমেন’ -এর একটি নতুন এবং আধুনিক ওয়েবসাইটের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন জাতীয় মহিলা কমিশনের চেয়ারপার্সন বিজয়া রহাটকর। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ত্রিপুরা রাজ্য মহিলা কমিশনের চেয়ারপার্সন ঝর্না দেববর্মা সহ কমিশনের অন্যান্য উচ্চপদস্থ সদস্যা ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। এদিন ত্রিপুরা রাজ্য মহিলা কমিশনের নতুন ওয়েবসাইটের

আনুষ্ঠানিক সূচনা করে জাতীয় মহিলা কমিশনের চেয়ারপার্সন বিজয়া রহাটকর জানান, এই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মটি ত্রিপুরার মহিলাদের অভিযোগ দায়ের এবং আইনি সহায়তা পাওয়ার প্রক্রিয়াকে আরও দ্রুত ও স্বচ্ছ করবে। এর মাধ্যমে দূরদূরান্তের মহিলারাও ঘরে বসেই কমিশনের দ্বারস্থ হতে পারবেন। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিজয়া রহাটকর জাতীয় ও রাজ্য স্তরের কমিশনগুলির মধ্যে সমন্বয়ের ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন। তিনি বলেন, “জাতীয় মহিলা কমিশন শুধু একা কাজ করায় বিশ্বাসী নয়। দেশের প্রতিটি রাজ্যের মহিলা কমিশন যাতে স্বাবলম্বী হয়ে আরও এগিয়ে যেতে পারে, তা নিয়ে ও নিরন্তর চিন্তা-ভাবনা করে।” তিনি আরও জানান, রাজ্যগুলির কাজের পর্যালোচনা এবং পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রতি তিন মাস অন্তর ভারতের সমস্ত রাজ্যের মহিলা কমিশনের চেয়ারপার্সন ও সদস্যদের নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করে থাকে জাতীয় মহিলা কমিশন। বর্তমান সময়ে কর্মক্ষেত্র, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কিংবা সাইবার দুনিয়ায় মহিলাদের ‘স্টলকিং’-এর শিকার হওয়ার প্রবণতা বাড়ছে। এই বিষয়ে সচেতনতা গড়ে তুলতেই ত্রিপুরার এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। বিজয়া রহাটকর স্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ করেন, “মহিলাদের সার্বিক নিরাপত্তা দেওয়াই জাতীয় মহিলা কমিশনের মূল লক্ষ্য ও শেষ কথা।”

