দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে বিপাকে উত্তরবঙ্গের ভোটকর্মীরা, কোচবিহারে জেলাশাসকের দ্বারস্থ কয়েকশ ভোটকর্মী।
দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে চরম অব্যবস্থা আর চূড়ান্ত উদ্বেগের মুখে কোচবিহারের ভোটকর্মীরা। হাতে সময় মাত্র কয়েক ঘণ্টা, অথচ এই অল্প সময়ের মধ্যেই কোচবিহার থেকে কয়েকশ কিলোমিটার দূরে দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন বুথে পৌঁছানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তাঁদের। সরকারি কোনো যাতায়াত ব্যবস্থা ছাড়াই এই নির্দেশ আসায় ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন ভোটকর্মীরা।

জানা গিয়েছে, কোচবিহারের প্রায় ৩৭৮ জন ভোটকর্মীর একটি দলকে নির্বাচনের ডিউটির জন্য দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় পাঠানো হচ্ছে। সোমবার সকাল ১০টা নাগাদ তাঁদের কাছে একটি নোটিশ পৌঁছায়। সেখানে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, মঙ্গলবার সকাল ৭টার মধ্যে তাঁদের নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছে রিপোর্ট করতে হবে।
ভোটকর্মীদের অধিকাংশেরই দাবি, সোমবার সকাল ১০টায় নোটিশ পাওয়ার পর মঙ্গলবার সকাল ৭টার মধ্যে কলকাতা বা দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলোতে পৌঁছানো প্রায় অসম্ভব। তাঁদের দাবি হাতে মাত্র ২০-২২ ঘণ্টা সময় নিয়ে কয়েকশ কিলোমিটার পথ পাড়ি দেওয়া প্রায় দুঃসাধ্য।এত সংখ্যায় ভোট কর্মীদের নির্দেশ হলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো বিশেষ ট্রেন বা বাসের ব্যবস্থা করা হয়নি। এদের অধিকাংশ কর্মীই কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মচারী। তাঁদের অভিযোগ, কোনো পরিকল্পনা ছাড়াই হঠাৎ করে এই নির্দেশ তাঁদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে।
যাতায়াতের ব্যবস্থা এবং সময়ের দাবি জানিয়ে সোমবারই কোচবিহারের জেলাশাসকের দপ্তরে হাজির হন কয়েকশ কর্মী। তাঁদের দাবি, প্রশাসন যদি দ্রুত কোনো বিশেষ পরিবহনের ব্যবস্থা না করে, তবে সঠিক সময়ে গন্তব্যে পৌঁছানো সম্ভব নয়। এর ফলে ভোটের কাজেও বড়সড় বিঘ্ন ঘটতে পারে বলে তাঁরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
তবে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোনো নিশ্চিত পদক্ষেপের কথা জানানো হয়নি। ফলে পাহাড়প্রমাণ অনিশ্চয়তা নিয়ে চরম উৎকণ্ঠায় ভোটকর্মীরা।

