ত্রিপুরা উপজাতি এলাকা স্বশাসিত জেলা পরিষদ (TTAADC) নির্বাচনের ভোট গণনা শুরু হতেই পাহাড়ের রাজনৈতিক সমীকরণে বড়সড় বদলের ইঙ্গিত মিলছে। প্রাথমিক রাউন্ডের শেষে অধিকাংশ আসনেই নির্ণায়ক শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে রাজপরিবারের বংশধর প্রদ্যোত বিক্রম মানিক্য দেববর্মার দল তিপ্রামথা । অন্যদিকে, বেশ কিছু আসনে শাসক দল বিজেপি এবং বাম-কংগ্রেস জোটের লড়াই চললেও জনজাতি এলাকায় তিপ্রামথা দলের দাপট । এদিন ভোট গণনাকে কেন্দ্র করে খোয়াই জেলার ১২ রামচন্দ্রঘাট আসনে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়। অভিযোগ, ভোট গণনাকে কেন্দ্র করে এক কর্মীকে জোরপূর্বক বের করে দেওয়া হয়। তবে উত্তেজনার মধ্যেই এখানে বড় ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে তিপ্রামথা। প্রথম রাউন্ডে ৯,৯৮৩ ভোটের মধ্যে তিপ্রামথা পেয়েছে ৫,২১৬ ভোট, যেখানে বিজেপি পেয়েছে মাত্র ৭০৪ ভোট।

বাম ও কংগ্রেস যথাক্রমে ১৬৬ ও ৭৫ ভোট নিয়ে অনেক পিছনে। দক্ষিণ জেলা: ২৬ বীরচন্দ্র কলসি এডিসি আসনে প্রথম রাউন্ডে তিপ্রামথা (৪৭৮৯) বিজেপির (৩২৯৫) চেয়ে অনেকটাই এগিয়ে। তবে ২৭ পূর্ব মুহুরীপুর ভুরাতলী কেন্দ্রে লড়াই বেশ হাড্ডাহাড্ডি। সেখানে তিপ্রামথা ২৪৯১ এবং বিজেপি ২১৯৩ ভোট পেয়েছে। অন্যদিকে, ২৮ শিলাছড়ি মনুবনকুল আসনে বিজেপি কিছুটা স্বস্তিতে, এখানে তারা ৫,৫৯৮ ভোট পেয়ে তিপ্রামথার (৪৪৮০) চেয়ে এগিয়ে আছে। গোমতী ও সিপাহীজলা জেলা: কিল্লা বাগমা এবং আমতলী গোলাঘাটি উভয় আসনেই তিপ্রামথা তাদের আধিপত্য বজায় রেখেছে এবং প্রথম রাউন্ড শেষে এগিয়ে রয়েছে। অম্পিনগর আসনেও তিপ্রামথা ৪৮০৮ ভোট পেয়ে ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে গেছে, যেখানে বিজেপি ও সিপিআইএম যথাক্রমে ১২১০ ও ৮১৫ ভোট পেয়েছে। উত্তর জেলা দশদা কাঞ্চনপুরে অবশ্য লড়াইয়ের চিত্র ভিন্ন। এখানে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে বিজেপি এবং সিপিআইএম-এর মধ্যে।

