আলিপুরদুয়ার: নির্বাচনের মুখে আলিপুরদুয়ারের কালচিনি বিধানসভায় প্রকাশ্যে এল বিজেপির অন্দরের কোন্দল। দলের জেলা কমিটির সদস্য নারায়ণ লামা নির্দল প্রার্থী হিসেবে ভোটের ময়দানে নামতেই চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে রাজনৈতিক মহলে।
বুধবার সাংবাদিক বৈঠক করে তিনি বিজেপি প্রার্থী তথা গতবারের বিধায়ক বিশাল লামা এবং দলের একাধিক নেতার বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন। তাঁর অভিযোগ, দলে পুরনো কর্মীদের কোনও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না এবং বারবার ঊর্ধ্বতন নেতৃত্বকে জানানো সত্ত্বেও সমস্যার সমাধান হয়নি বলেই তিনি নির্দল হিসেবে লড়াইয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
নারায়ণ লামার কথায়, “একজন বিধায়কের কাজ মানুষের স্বার্থে কাজ করা, এলাকার পরিকাঠামো উন্নত করা। কিন্তু তা না করে সংগঠন নিয়েই বেশি ব্যস্ত ছিলেন তিনি।

সেই কারণেই কালচিনিতে বিজেপি পিছিয়ে পড়েছে।”
একইসঙ্গে বিজেপির জেলা সম্পাদক অলোক মিত্রকে ইঙ্গিত করে তাঁর অভিযোগ, দলের নির্দিষ্ট কিছু নেতাই সব সুবিধা পাচ্ছেন। এমনকি এক নেতা ও তাঁর স্ত্রী—দুজনকেই পঞ্চায়েত নির্বাচনে টিকিট দেওয়া হয়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তও নেওয়া হচ্ছে বাকি কর্মীদের অন্ধকারে রেখে। বিধায়ক তহবিলের কাজেও পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তোলেন তিনি।
তবে দলীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে এত অভিযোগ সত্ত্বেও নিজেকে এখনও বিজেপির সমর্থক বলেই দাবি করেছেন নারায়ণ লামা। পাশাপাশি তৃণমূল কংগ্রেসের সংগঠনকে প্রশংসা করে তিনি বলেন, “সব দলেই সমস্যা থাকে, কিন্তু তৃণমূল সেই সমস্যা মিটিয়ে সবাইকে নিয়ে কাজ করে, বিজেপিতে তা হচ্ছে না।”
অন্যদিকে, নারায়ণ লামার অভিযোগকে গুরুত্ব দিতে নারাজ বিজেপি প্রার্থী বিশাল লামা। বিজেপির জেলা সম্পাদক অলোক মিত্র পাল্টা দাবি করেন, পঞ্চায়েত নির্বাচনে টিকিট না পেয়ে আগেই নির্দল হয়ে হেরে গিয়েছিলেন নারায়ণ লামা এবং তারপর থেকেই তিনি সক্রিয় রাজনীতিতে ছিলেন না।
অলোক মিত্র আরও অভিযোগ করেন, “তিনি আসলে তৃণমূলের জেলা চেয়ারম্যান গঙ্গাপ্রসাদ শর্মার ঘনিষ্ঠ। তাঁর উস্কানিতেই এসব করছেন। নির্দল প্রার্থী হলেও বাস্তবে তৃণমূলের হয়েই কাজ করছেন।”
নির্বাচনের আগে এই প্রকাশ্য দ্বন্দ্বে কালচিনির রাজনৈতিক সমীকরণ কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।

By EXTV

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *