নদীর ওপর তৈরি বাঁশের সাঁকো ভাঙাকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা ছড়াল জলপাইগুড়ি জেলার মেটেলি ব্লকের বিধাননগর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায়। প্রশাসন ও রিসোর্ট কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফেটে পড়লেন স্থানীয় চা বাগান শ্রমিক এবং গ্রামবাসীরা। পরিস্থিতি সামাল দিতে রীতিমতো ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। শেষ পর্যন্ত স্থানীয়দের তীব্র বাধার মুখে পড়ে সাঁকো ভাঙার কাজ বন্ধ রাখতে বাধ্য হয় রিসোর্ট কর্তৃপক্ষ।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৯ সালে কুর্তি নদীর ওপর এই বাঁশের সাঁকোটি তৈরি করেছিল একটি বেসরকারি রিসোর্ট কর্তৃপক্ষ। তারপর থেকেই এই সাঁকোটি এলাকার লাইফলাইন হয়ে ওঠে। প্রতিদিন প্রায় ৩০০ জন চা বাগান শ্রমিক এই পথ দিয়েই বাগানের কাজে যাতায়াত করেন। এছাড়াও সাধারণ গ্রামবাসীদের নিত্যদিনের যাতায়াতের একমাত্র ভরসা এই সাঁকোটি। ২০২২ সালেও একবার এই সাঁকো ভাঙার চেষ্টা করা হয়েছিল, সেবারেও সাধারণ মানুষের বাধায় তা থমকে যায়। সোমবার প্রশাসনের নির্দেশিকা জারি হতেই রিসোর্ট কর্তৃপক্ষ নতুন করে সাঁকোটি ভাঙতে গেলে ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয়রা।
ঘটনা প্রসঙ্গে ঊষা ওরাওঁ, লাইলি বেগমের মতো ক্ষুব্ধ চা বাগান শ্রমিকরা জানান, এই সাঁকো পার হয়েই আমরা প্রতিদিন রুটিরুজির টানে চা বাগানে কাজ করতে যাই। হঠাৎ করে রিসোর্টের লোকজন এটা ভাঙতে এসেছে।আমরা কোনোভাবেই এই সাঁকো ভাঙতে দেব না।
অন্যদিকে, রিসোর্টের মালিক শেখ জিয়াউর রহমান বলেন, প্রশাসনের তরফ থেকে আমাদের দ্রুত এই বাঁশের সাঁকোটি ভেঙে ফেলার কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেই নির্দেশ মেনেই এদিন কাজ শুরু করা হয়েছিল। কিন্তু চা বাগানের শ্রমিক এবং স্থানীয় বাসিন্দারা এসে কাজে বাধা দেন। আমরা পুরো বিষয়টি প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন মহলকে লিখিতভাবে জানাচ্ছি। আপাতত সাঁকো ভাঙার কাজ বন্ধ থাকলেও, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কুর্তি নদী সংলগ্ন এলাকায় এখনও চাপা উত্তেজনা রয়েছে।
যাতায়াতের বিকল্প স্থায়ী ব্যবস্থা না করে প্রশাসন কেন সাঁকো ভাঙার নির্দেশ দিল, তা নিয়ে ক্ষোভ বাড়ছে জনমানসে।

