প্রচণ্ড দাবদাহে নাজেহাল জনজীবন। গরম থেকে স্বস্তি পেতে মানুষ যেমন জলের আশ্রয় নিচ্ছে, পশুরাও যে তার ব্যতিক্রম নয়, তার প্রমাণ মিলল জলপাইগুড়িতে। তিস্তা নদীর বুকে এক মনোরম দৃশ্য ক্যামেরাবন্দি আমাদের ক্যামেরায়।কিন্তু এই মনোরম দৃশ্যের আড়ালেও রয়েছে আতঙ্কের চোরাস্রোত।
তীব্র গরম হাঁসফাঁস করা রোদের হাত থেকে বাঁচতে জলপাইগুড়ির রংধামালি নাথুয়া চর এলাকার তিস্তায় নেমে এল প্রায় ৫০ থেকে ৬০টি হাতি। বড়দের সঙ্গে জলের তোড়ে খুনসুটিতে মেতে উঠল শাবকেরাও। প্রকৃতির কোলে যেন এক বিশাল ‘সুইমিং পুল’। নদীর জলে হাতির এই দাপাদাপি আর জলকেলি মুগ্ধ করল স্থানীয়দের। তবে এই মনোরম দৃশ্যের আড়ালে লুকিয়ে আছে চরম আতঙ্ক।

বেশ কিছুদিন ধরেই ভুট্টা ক্ষেতের টানে ওই এলাকায় আস্তানা গেড়েছে হাতির এই দলটি। স্থানীয় ফসলি জমিতে ঢুকে পড়ছে নিয়মিত, নষ্ট হচ্ছে ফসল। হাতিদের লোকালয়ে আনাগোনায় কার্যত ঘুম উড়েছে এলাকার মানুষের। রবিবার দুপুরে গরমের হাত থেকে বাঁচতে হাতির দল নদীমুখো হওয়ায় কিছুটা স্বস্তি মিললেও, আতঙ্ক কাটেনি।
এলিফ্যান্ট স্কট রেঞ্জার, বেলাকোপা উত্তম সরকার বলেন,বন দফতরের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, প্রচণ্ড গরমের কারণেই হাতিরা নদীর জলে আশ্রয় নিয়েছে। তবে এলাকা জুড়ে জারি রয়েছে কড়া সতর্কতা। বাসিন্দাদের অকারণে বাড়ির বাইরে বের না হতে এবং হাতিদের থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখতে পরামর্শ দিয়েছে বন দফতর। হাতির গতিবিধির ওপর ২৪ ঘণ্টা নজর রাখছেন বেলাকোপা রেঞ্জের কর্মীরা।

