নেশামুক্তিকেন্দ্রে এক ব্যাক্তিকে পি*টিয়ে মা*রার অভিযোগ। ঘটনায় গ্রেফতার করা হয়েছে ১ জনকে।চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে শুক্রবার রাতে। আলিপুরদুয়ার চৌপথী এলাকার একটি নেশামুক্তি কেন্দ্রে।জানাগেছে, মৃত ব্যক্তির নাম আসরাফুল হক(৩৯), অসমের ধুরড়ী এলকে বাসিন্দা। গত ১ লা মার্চ তাকে এই কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছিল। ওই নেশামুক্তি কেন্দ্রে প্রায় ২০ জন আবাসিক রয়েছেন। নেশামুক্তি কেন্দ্রে ভর্তি থাকা এক যুবক জানান, শুক্রবার সকাল থেকে আসরাফুলকে হাত পা বেঁধে রাখা হয়েছিল। তারপর তাঁকে বেপরোয়া মারধোর করে নেশা মুক্তি কেন্দ্রের কর্ণধার কোচবিহার খাগড়াবাড়ি এলাকার বাসিন্দা রাজদীপ পাল। দিনভর তাঁকে কোথাও যেতে দেয়া হয়নি। শুক্রবার সন্ধ্যে নাগাদ আসরাফুল কে ইনজেকশন দেয় রাজদীপ পাল।তারপরই নেশা মুক্তি কেন্দ্রে আসরাফুলের মৃত্যু হয়।

জানা গেছে ওই কেন্দ্রে ৭ জন কর্মী ছিলেন।তড়িঘড়ি আসরাফুল কে নিয়ে যাওয়া হয় আলিপুরদুয়ার জেলা হাসপাতালে। চিকিৎসকরা পরীক্ষার পর আসরাফুল কে মৃত বলে ঘোষনা করেন। খবর পেতেই মৃত ব্যক্তির পরিবার আলিপুরদুয়ার জেলা হাসপাতাল এসে উপস্থিত হয়। কিন্তু তার আগেই মৃতদেহ হাসপাতালের মর্গে প্রিজার্ভ করে হাসপতালে কর্তৃপক্ষ। প্রাথমিকভাবে নেশা মুক্তি কেন্দ্রের অন্যান্য যুবকদের কাছ থেকে ঘটনাটি জানতে পেরে আলিপুরদুয়ার জেলা হাসপাতালের সামনেই বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন মৃতের পরিবারের লোকেরা। যদিও ঘটনা টি কি ঘটেছিল তা জানতে পারেনি হাসপাতাল কতৃপক্ষ। পরে সংবাদ মাধ্যমের কাছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিষয় টি জানতে পেরে ব্যাবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। আলিপুরদুয়ার জেলা হাসপাতালের সুপার ডা: পরিতোষ মন্ডল বলেন,মৃত অবস্থায় ওই ব্যাক্তিকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। তার শরীরে একাধিক ক্ষতচিহ্ন রয়েছে। তবে ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুর সঠিক কারণ পরিস্কার হবে বলে তিনি জানান।
এদিকে আসরাফুলের ভাই হানিসুর হক বলেন, শুক্রবার রাতে আমাদের বাড়িতে খবর দেওয়া হয়েছিল।আমরা এসে বিষয়টি দেখি যে দাদাকে পিটিয়ে মারা হয়েছে। এএই ব্যাপারে গতকাল রাতেই আলিপুরদুয়ার থানায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ এ ঘটনায় ওই নেশামুক্তি কেন্দ্রের এক কর্মীকে গ্রেফতার করেছে। আলিপুরদুয়ারের এস ডিপিও শ্রীনিবাস এম পি বলেন,ওই নেশামুক্তি সেন্টারে একজন কে পিটিয়ে মারা হয়েছে বলে অভিযোগ জানানো হয়। ঘটনায় একজন কে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার নাম রাজদীপ পাল। বাড়ি কোচবিহারের খাগড়াবাড়ি তে। পুলিশ বিষয় টি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলেই মৃত্যু রহস্য পরিস্কার হবে। ঘটনার পর ওই নেশামুক্তি কেন্দ্রের অন্যান্য কর্মীরা পলাতক। বাকীদের খোঁজ শুরু করেছে পুলিশ। ওই নেশামুক্তি সেন্টারে যারা চিকিৎসাধীন ছিলেন তাদের বাড়ির লোকজনকে খবর দেওয়ার পর তারা এসে রোগীদের বাড়ি নিয়ে যাচ্ছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। নেশামুক্তি সেন্টারটি সম্পূর্ণ খালি হলেই পুলিশ ওই কেন্দ্রটিতে তালা ঝোলাবে বলে সূত্রের খবর।

By EXTV

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *