রাজনৈতিক হানাহানি রুখতে শান্তির বার্তা; সাইকেলে তিন দলের পতাকা নিয়ে বর্ধমানের রাস্তায় যুবক। তিন পতাকায় শহর কাঁপানো প্রচার। রাজ্যে যখন ভোটের পারদ চড়ছে, দিকে দিকে রাজনৈতিক তরজা আর সংঘাতের খবর শিরোনামে আসছে, ঠিক তখনই এক সম্পূর্ণ ভিন্ন ও ইতিবাচক ছবি ধরা পড়ল পূর্ব বর্ধমান জেলার বর্ধমান শহরে। সৌজন্যের রাজনীতি এবং ভ্রাতৃত্বের বার্তা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন শহরেরই এক সচেতন যুবক। তিন পতাকায় এক সাইকেল। বর্ধমান শহরের ব্যস্ত রাজপথ থেকে শুরু করে অলিগলি— সর্বত্রই এখন পরিচিত মুখ হয়ে উঠেছেন এই যুবক। তার সঙ্গী শুধু একটি পুরনো সাইকেল। কিন্তু সেই সাইকেলের হ্যান্ডেলে বাঁধা রয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস, বিজেপি এবং সিপিএম— রাজ্যের প্রধান তিন যুযুধান শিবিরের দলীয় পতাকা। আপাতদৃষ্টিতে যা বৈপরীত্য মনে হলেও, ওই যুবকের কাছে এটি রাজনৈতিক সহাবস্থানের এক শক্তিশালী প্রতীক।

“নেতা নয়, দায়ী নীচুতলার অশান্তি। সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে ওই যুবক স্পষ্ট জানান, তার লক্ষ্য সাধারণ মানুষকে সচেতন করা। তিনি বলেন সব দলই ভালো, তাদের আদর্শ আলাদা হতে পারে। প্রত্যেক দলের শীর্ষ নেতৃত্ব নিজের জায়গায় ঠিক থাকেন। কিন্তু সমস্যা তৈরি হয় নীচুতলার কিছু কর্মী-সমর্থকদের উগ্র মানসিকতায়। তাদের দলাদলি আর রাজনৈতিক হিংসার কারণে রক্ত ঝরে, মায়ের কোল খালি হয়, অকালে শেষ হয়ে যায় সাজানো সংসার। হিংসা মুক্ত ভোটের ডাক। ভোট গ্রহণ পর্ব শুরু হতেই যখন উত্তেজনা ছড়াচ্ছে, তখন এই যুবকের আবেদন অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। তার মতে, গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করে মানুষ নিজের পছন্দমতো ভোট দেবেন— এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু সেই ভোট যেন কোনোভাবেই প্রতিবেশী বা বন্ধুর সঙ্গে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের কারণ না হয়ে দাঁড়ায়। শহরের বাসিন্দারা এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা এবং সামাজিক শান্তির এই বার্তা রাজনৈতিক কর্মীদের মনে কতটা প্রভাব ফেলবে, তা সময়ই বলবে। তবে ভোট-যুদ্ধের বাজারে এই অরাজনৈতিক লড়াই যে বর্ধমানবাসীর মন জয় করেছে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই।

