বীরভূমের তারাপীঠে শুক্রবার কৌশিকী অমাবস্যা উপলক্ষে উপচে পড়েছে পূণ্যার্থীদের ভিড়। সকাল থেকেই লক্ষাধিক ভক্ত মা তারার দর্শনের জন্য ভিড় জমিয়েছেন। সকাল ১১টা ৫৫ মিনিটে অমাবস্যা তিথি শুরু হওয়ার আগে মায়ের ব্রহ্মশিলা মূর্তিকে স্নান করানো হয় এবং রাজরাজেশ্বরী বেশে সাজিয়ে শুরু হয় মঙ্গল আরতি। এরপরই গর্ভগৃহের দরজা খুলে দেওয়া হবে ভক্তদের জন্য। প্রচলিত কাহিনি অনুযায়ী, শুম্ভ-নিশুম্ভ বধের জন্য দেবী দুর্গার কোষ থেকে দেবী কৌশিকীর জন্ম হয় এবং সেই অমাবস্যার তিথিতেই তিনি অসুরবধ করে দেবতাকুলকে রক্ষা করেন। সেই থেকে এই অমাবস্যা ‘কৌশিকী অমাবস্যা’ নামে পরিচিত। লোকু মুখে প্রচলিত আছে, তারাপীঠ মহাশ্মশানে বসেই বহু সাধক কৌশিকী অমাবস্যার রাতে সাধনায় সিদ্ধিলাভ করেছেন। বিশেষ করে বামাক্ষ্যাপার অলৌকিক কাহিনির জন্য তারাপীঠ আজও ‘সিদ্ধপীঠ’ নামে পরিচিত।

প্রাচীনকাল থেকে আজও এই অমাবস্যার রাতে মহাশ্মশানে হাজার হাজার হোমকুণ্ড জ্বলে ওঠে। আজ দুপুরে দেবীকে অন্নভোগ নিবেদন করা হবে। ভোগে থাকছে পোলাও, ফ্রায়েড রাইস, ভাত, ডাল, পাঁচ প্রকার ভাজা, তরকারি, মাছ, বলির পাঁঠার মাংস, শোল মাছ পোড়া, পায়েস, পাঁচরকম মিষ্টি প্রভৃতি। সন্ধ্যায় শোলার ডাকের সাজে দেবীকে সাজানো হবে। মঙ্গল আরতির পর নিবেদন করা হবে শীতল ভোগ। রাতভর চলবে বিশেষ পূজা, ভোগ নিবেদন ও তন্ত্রসাধনা। ভোর তিনটের দিকে এক ঘণ্টার জন্য দেবীকে শয়ন করানো হবে। অন্যদিকে, কৌশিকী অমাবস্যা উপলক্ষে তারাপীঠের মহাশ্মশানে শুরু হয়েছে হোমযজ্ঞ ও তন্ত্রসাধনা। সন্ধ্যার পর সেই সংখ্যা আরও বাড়বে বলে জানা গেছে। ভিড় সামলাতে মন্দির ও আশপাশে কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। বসানো হয়েছে মেটাল ডিটেক্টর, সিসিটিভি ক্যামেরা। নিরাপত্তায় রয়েছেন প্রায় এক হাজার পুলিশ কর্মী, ১,৭০০ সিভিক ভলান্টিয়ার ও মন্দির কমিটির ৩০০ নিরাপত্তারক্ষী।

By EXTV

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *