১৯ বছরের এক জনজাতি যুবতী, পেশায় এয়ার হোস্টেস, গুয়াহাটি থেকে নিজ বাড়ি ত্রিপুরা সিপাহীজলা জেলা বিশ্রামগঞ্জে ফিরছিলেন। এয়ারপোর্ট থেকে নেমে সে আগরতলা থেকে সোনামুড়ার বাস গাড়িতে করে বিশ্রামগঞ্জ নিজ বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। বাইরে তখন প্রচন্ড বৃষ্টি হচ্ছিল। বাস গাড়ির ভিতরে সামনের দিকে সিটে বসেছিল ওই যুবতী। একই সিটে এক যুবক বসে। কিছুক্ষণ ওই যুবক চলন্ত বাসে যুবতীর সাথে অ*সভ্যতা শুরু করে। রাত তখন প্রায় সাড়ে সাতটা। অন্ধকারের মধ্যে জোরপূর্বক ওই যুবতীর সাথে চলন্ত বাসে অবর্ণনীয় অ*সভ্যতা চালায় ওই যুবকটি। এরপর ফোনের মাধ্যমে ওই যুবতী তার আত্মীয়-পরিজনদের বিষয়টি জানালে তারা বিশ্রামগঞ্জ এসে হাজির হয়। বিশ্রামগঞ্জ মোটরস্ট্যান্ডে গাড়িটি পৌঁছতেই ওই যুবতীর পরিবারের লোকজনরা বাস গাড়িটিকে ঘিরে ফেলেন ।

বিশ্রামগঞ্জ পৌঁছার আগেই অভিযুক্ত যুবক গাড়ি থেকে নেমে পালিয়ে যায়। এরপর উত্তেজিত মানুষজনের আক্রমণ চলে বাস গাড়িটিতে। ভেঙ্গে ফেলা হয় গাড়ির গ্লাস, মুহূর্তের মধ্যে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়। ছুটে আসে বিশাল পুলিশ , ত্রিপুরার স্টেট রাইফেলস ও সিআরপিএফ জওয়ানরা। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে সিপাহীজলা জেলার পুলিশ সুপার সহ, বিশালগড় থানার পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে ছুটে যায়। অবশেষে পুলিশের ব্যাপক তৎপরতায় গাড়িটিকে উদ্ধার করে গাড়ির ভিতরে থাকা যাত্রীদের থানায় নিয়ে আসা হয়। বিশ্রামগঞ্জ বাজার এলাকায় ২৪ ঘন্টার কারফিউ জারি করল ত্রিপুরা সিপাহীজলা পুলিশ প্রশাসন। বুধবারের রাত ১২টা পর্যন্ত এই কারফিউ জারি থাকবে। নামানো হয়েছে আধা সামরিক বাহিনীর জওয়ানদের।সামাজিক মাধ্যমে গুজব না ছড়ানোর নির্দেশ দিলেন ত্রিপুরা পুলিশের আইজি (এলও) মনচাক ইপ্পার। এই ঘটনায় বর্তমানে গোটা বিশ্রামগঞ্জ এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

