অভাবের সংসারে ফুটল স্বপ্নের ফুল! ‘অগ্নিবীর’ হয়ে ঘরে ফিরল ঝাড়গ্রামের রাহুল।
গোপীবল্লভপুরের দুই নম্বর ব্লকের বেলিয়াবেড়া থানার অন্তর্গত খাড়বান্দী অঞ্চলের একেবারে প্রত্যন্ত গ্রাম লাদনগেড়িয়া। সেই গ্রামেরই মেঠো পথ পেরিয়ে দেশের সুরক্ষার গুরুদায়িত্ব আজ নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছে ঘরের ছেলে রাহুল মাহাতো। অভাব আর দারিদ্রকে নিত্যসঙ্গী করেই ভারতের সেনাবাহিনীতে ‘অগ্নিবীর’ হিসেবে নিজের জায়গা পাকা করে নিয়েছে সে। হাড়ভাঙা খাটুনির কঠিন প্রশিক্ষণ পর্ব শেষে প্রথমবার সেনারবাহির বেশে নিজের ভিটেয় ফিরতেই আবেগের বাঁধ ভাঙল গোটা গ্রামে। গর্বে আর আনন্দে চোখের জলে ভাসলেন বাবা সঞ্জয় মাহাতো এবং মা অনুপমা মাহাতো। দেশের পাহারাদার হয়ে ফেরা ঘরের ছেলেকে কাছে পেয়ে গলায় ফুলের মালা পরিয়ে পরম আদরে বরণ করে ঘরের অন্দরে তুলে নিলেন মা বাবা।

সাফল্যের এই যাত্রাপথটা অবশ্য রাহুলের জন্য একেবারেই মসৃণ ছিল না। পরিবারের আর্থিক অবস্থা রীতিমতো করুণ। বাবা ও মা দুজনে মিলে একটি ছোট্ট হোটেল চালান। পরিবারে বাবা মা ভাই রয়েছেন এছাড়াও দাদু ঠাকুমা, কাকু কাকিমা রয়েছেন। দিনভর সেই হাড়ভাঙা খাটুনির পর হোটেলের যৎসামান্য আয়েই কোনওরকমে দুবেলা হাঁড়ি চড়ে মাহাতো পরিবারে। তবে অভাবের সেই জমাট অন্ধকারের মাঝেই ছেলেকে মানুষের মতো মানুষ করার এক অদম্য জেদ ছিল বাবা-মায়ের। খাড়বান্দী হাইস্কুল থেকে পড়াশোনার গণ্ডি পার করে রাহুলও প্রমাণ করে দিয়েছে যে, বুকভরা স্বপ্ন আর কঠোর পরিশ্রম থাকলে দারিদ্র কখনওই সাফল্যের পথে পাঁচিল হয়ে দাঁড়াতে পারে না। দীর্ঘ কড়া অনুশাসনের প্রশিক্ষণ শেষে আপাতত পোস্টিংয়ের অপেক্ষায় রাহুল। তবে তার আগে কয়েকটা দিন বাবা-মায়ের আদরে আর গ্রামের মানুষের ভালোবাসায় কাটানোর পালা। জঙ্গলমহলের প্রত্যন্ত মাটির বুক থেকে উঠে আসা, অভাবের সংসারে বেড়ে ওঠা এই তরুণ যে আজ গোটা এলাকার গর্বের প্রতীক, তা তাকে ঘিরে ওই ফুলেল অভ্যর্থনা আর উন্মাদনাই যেন বিনা বাক্যে বুঝিয়ে দিচ্ছে। দরিদ্র হোটেলের ছেলে থেকে দেশের পাহারাদার হয়ে ওঠার এই অদম্য লড়াই আগামী দিনে এলাকার আরও বহু তরুণকে যে পথ দেখাবে, তা আর আলাদা করে বলার অপেক্ষা রাখে না।

