আগামী ২৬ জুন তিনবিঘা শহীদ দিবসকে সামনে রেখে শহীদ বেদী পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার কাজে নেমেছেন তিনবিঘা করিডোর হস্তান্তর বিরোধী আন্দোলনের শহীদ পরিবারের সদস্যরা। রাজ্যে নতুন সরকার আসার পর এই প্রথম আগামী ২৬ শে জুন তিন বিঘা শহীদ দিবস পালন হবে। দীর্ঘদিনের ক্ষোভ ও অভিমানের আবহ কাটিয়ে এবার আশার আলো দেখছেন শহীদ পরিবারগুলি। সম্প্রতি রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে শহীদ পরিবারের সদস্যদের চাকরি দেওয়ার সিদ্ধান্ত ঘোষণার পর পরিবারগুলির মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে।
তিনবিঘা করিডোর সংলগ্ন এলাকায় বুধবার সকাল থেকেই শহীদ পরিবারের সদস্যদের শহীদ বেদী পরিষ্কার করতে দেখা যায়। কেউ আগাছা পরিষ্কার করছেন, কেউ বেদী ধুয়ে-মুছে শহীদ দিবসের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। কয়েক মাস আগেও যে শহীদ বেদীর সামনে প্রতিবাদের পোস্টার টাঙানো ছিল, আজ সেখানে দেখা যাচ্ছে সম্পূর্ণ ভিন্ন ছবি।
পরিবারগুলির দাবি, দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে তাঁরা শুধু প্রতিশ্রুতিই পেয়েছেন। কিন্তু সম্প্রতি রাজ্য সরকারের উদ্যোগে চাকরির ব্যবস্থা করার প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় তাঁদের মধ্যে আবার আস্থা ফিরে এসেছে। সেই কারণেই আসন্ন শহীদ দিবসকে ঘিরে অন্যরকম ভাবেই প্রস্তুতি শুরু করেছেন তাঁরা।

শহীদ সুধীর রায়ের ছেলে ভূপেন রায় বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে আমরা অবহেলিত ছিলাম। বাবার আত্মত্যাগের যথাযথ মর্যাদা পাইনি।
সম্প্রতি সরকারের পক্ষ থেকে চাকরির বিষয়ে ইতিবাচক পদক্ষেপ নেওয়ায় আমাদের মনে আশা জেগেছে। তাই এবার নিজেরাই শহীদ বেদী পরিষ্কার করছি এবং শহীদ দিবস পালন করার প্রস্তুতি নিচ্ছি।”
শহীদ ক্ষীতেন অধিকারীর পরিবারের সদস্যরাও একই ধরনের প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন। তাঁদের বক্তব্য, দীর্ঘদিনের দুঃখ-কষ্টের মাঝে এই সিদ্ধান্ত কিছুটা হলেও স্বস্তি এনে দিয়েছে। চাকরির সুযোগ বাস্তবে কার্যকর হলে পরিবারগুলির আর্থিক অবস্থার উন্নতি হবে বলেও আশা প্রকাশ করেছেন তাঁরা।

