বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণ হলেও বীরভূমের চন্দ্রপুর থানার অন্তর্গত তাঁতিপাড়া হাটতলার আনুমানিক ৩০০ বছরের প্রাচীন এক রাত্তির রহস্যময়ী রক্ষা কালীপূজোকে কেন্দ্র করে উৎসবমুখর হয়ে ওঠে তাঁতিপাড়া গ্রাম। সূর্যাস্ত যাওয়ার পর এই রক্ষাকালী কে তৈরি করা হয়। সারা রাত্রি ধরে চলে পূজা পাট ।

সূর্য উদয় হওয়ার আগেই হাজার হাজার মানুষের সমাগমে বাদ্যযন্ত্র ও আলোক শয্যায় সজ্জিত করে শোভাযাত্রা সহকারে বিসর্জন দেওয়া হয় রক্ষা কালী কে প্রার্থনা করে সবাইকে ভালো রেখে সবারই মঙ্গল করে সবাইকে সুস্থ রেখে আবার এসো মা। স্থানীয় সূত্রে প্রকাশ এক সময় তাঁতিপাড়া সহ আশেপাশের গ্রামে মহামারী প্রকট আকার ধারণ করেছিল। সেই সময় একজন সন্ন্যাসী বিধান দিয়েছিলেন এই রক্ষা কালী পুজো করলে মহামারীর হাত থেকে মা রক্ষা করবেন। সেই অজ্ঞাত পরিচয় সাধুর সন্ন্যাসী নির্দেশে তাঁতিপাড়া হাটতলা রক্ষা কালী পূজার সূচনা হয়। তারপর থেকেই এই রক্ষা কালীপুজো হয়ে আসছে বছরের পর বছর চৈত্র মাসের শেষ সপ্তাহে প্রতিবছর। বীরভূমের বৃহত্তম গ্রামগুলির মধ্যে অন্যতম হচ্ছে এই তাঁতি পাড়া গ্রাম। এই তাঁতিপাড়া গ্রামে প্রায় ১৫ হাজার মানুষ বসবাস করেন। কিন্তু এই ১৫ হাজার মানুষ ও তাদের আত্মীয়-স্বজন এই এক রাত্তির রহস্যময়ী কালীপুজোকে কেন্দ্র করে মিলিত হন আত্মীয়তার সূত্রে ভক্তি ও শ্রদ্ধার বিশ্বাসে।

