আর কিছুদিন পরই দোল পূর্ণিমা। রঙের এই উৎসবকে ঘিরে এখন থেকেই উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে শিলিগুড়ি শহরজুড়ে। বসন্তের আগমনের সঙ্গে সঙ্গে আবিরের চাহিদাও বাড়তে শুরু করেছে। আর সেই চাহিদা মেটাতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন আবির প্রস্তুতকারকেরা।
ইস্টার্ন বাইপাস সংলগ্ন ছোট ফাঁপড়ি এলাকার একটি আবির তৈরির কারখানায় গিয়ে দেখা গেল, সকাল থেকে রাত পর্যন্ত চলছে জোর কদমে কাজ। শ্রমিকরা কেউ রং মেশাচ্ছেন, কেউ শুকনো আবির চালুনি দিয়ে ছেঁকে নিচ্ছেন, আবার কেউ প্যাকেটজাত করার কাজে ব্যস্ত। কারখানা কর্তৃপক্ষের দাবি, গত বছরের তুলনায় এ বছর চাহিদা অনেকটাই বেড়েছে। তাই আগেভাগেই উৎপাদন বাড়ানো হয়েছে।কারখানার এক কর্তা জানান, “আমরা সম্পূর্ণ হাতে তৈরি আবির প্রস্তুত করি। এতে কোনও ক্ষতিকর কেমিক্যাল ব্যবহার করা হয় না। প্রাকৃতিক উপাদান এবং ত্বকবান্ধব রং ব্যবহার করায় আমাদের আবিরের আলাদা চাহিদা রয়েছে।”

জানা গেছে, এখানকার তৈরি আবির শুধু শিলিগুড়ি বা উত্তরবঙ্গেই নয়, রাজ্যের বিভিন্ন জেলা ছাড়াও পার্শ্ববর্তী রাজ্যগুলোতেও সরবরাহ করা হচ্ছে। পাইকারি ব্যবসায়ীরা ইতিমধ্যেই বড় অর্ডার দিয়েছেন। ফলে শ্রমিকদেরও কাজ বেড়েছে। মৌসুমি এই কাজের মাধ্যমে বহু স্থানীয় পরিবার অতিরিক্ত আয়ের সুযোগ পাচ্ছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে ক্রেতাদের মধ্যে সচেতনতা অনেক বেড়েছে। ত্বকের ক্ষতি, অ্যালার্জি বা পরিবেশ দূষণের আশঙ্কায় মানুষ এখন কেমিক্যালমুক্ত ও পরিবেশবান্ধব আবিরের দিকেই বেশি ঝুঁকছেন। সেই কারণেই হাতে তৈরি ও নিরাপদ আবিরের বাজারও দিন দিন সম্প্রসারিত হচ্ছে।
দোল পূর্ণিমা মানেই শুধু রঙের উৎসব নয়, সম্প্রীতি ও ভালোবাসারও বার্তা। আর সেই উৎসবকে রঙিন করে তুলতে এখন থেকেই ব্যস্ত শিলিগুড়ির আবির কারখানাগুলি। উৎপাদনের ব্যস্ততা আর রঙের ছোঁয়ায় ছোট ফাঁপড়ি এলাকা যেন আগাম বসন্তের আভাস পাচ্ছে।

