আলিপুরদুয়ার জেলার মাদারিহাট বিধানসভার অন্তর্গত এথেলবাড়ি এলাকার রহিমপুর চা বাগান সংলগ্ন এলাকায় কয়েকশো একর আদিবাসী জমি দখলের অভিযোগে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, কোটি কোটি টাকার এই জমি এখন জমি মাফিয়াদের কব্জায়। প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা থাকলেও প্রকাশ্যে চলছে ইটভাটার কাজ। একসময় এই এলাকার আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষ চা বাগানে শ্রমিকের কাজের পাশাপাশি নিজেদের জমিতে চাষাবাদ করে সংসার চালাতেন। ধান, শাকসবজি ও বিভিন্ন ফসল ফলিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন তারা। কিন্তু ২০০০ সালের পর থেকে পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করে। চাষাবাদে তেমন লাভ না হওয়ায় এবং আর্থিক চাপে পড়ে অনেকেই জমি নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েন। সেই সুযোগেই এলাকায় সক্রিয় হয়ে ওঠে একদল অসাধু চক্র।

অভিযোগ, বেশি লাভের প্রলোভন দেখিয়ে আদিবাসীদের জমিতে বেআইনি ভাবে ইটভাটা চালু করা হয়। ধীরে ধীরে বহু জমি ভিনরাজ্য থেকে আসা দুষ্কৃতীদের দখলে চলে যায়। স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, জমি মাফিয়াদের যোগসাজশে বহু জমির খতিয়ান পর্যন্ত ভিন্ন ভাষাভাষী ব্যক্তিদের নামে বদল করে দেওয়া হয়েছে। ফলে প্রকৃত জমির মালিকেরা আইনগতভাবে জমি ফেরত পেতে হিমশিম খাচ্ছেন। বর্তমানে ওই বিস্তীর্ণ এলাকায় দেখা যাচ্ছে ইটভাটার চুল্লির ধোঁয়া, খোঁড়া জমি ও পোড়া মাটির স্তূপ। প্রশাসনের তরফে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হলেও মাটি কেটে ইট তৈরির কাজ বন্ধ হয়নি বলে অভিযোগ। এতে পরিবেশেরও ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে বলে দাবি বাসিন্দাদের। নিজেদের জবরদখল হওয়া জমি ফিরে পেতে বহু আদিবাসী পরিবার প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছেন। তাঁরা দ্রুত তদন্ত ও দখলমুক্তির দাবি জানিয়েছেন। এদিকে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই শাসক ও বিরোধী—দুই রাজনৈতিক দলের নেতারাই আদিবাসী জমি রক্ষার দাবিতে সরব হয়েছেন। প্রশাসন কী পদক্ষেপ নেয়, সেদিকেই এখন তাকিয়ে রয়েছে গোটা এলাকা।

