শিবচতুর্দশীতে মহাদের আর ভক্তের প্রেম হার মানায় বুনোহাতির ভয়কে। বক্সার গভির জঙ্গলে বুনো হাতির ভয়কে উপেক্ষা করে শত শত ভক্তের সমাগম ঘটে কুমারগ্রাম ব্লকের বারবিশা বিটের জঙ্গলে। কুমারগ্রাম জোড়াই রাজ্য সড়কে রাধানগর চৌপতি থেকে শিলবাংলা রোড ধরে এগোলে বারবিশা বিট অফিস, সেখান থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার গভীর জঙ্গলের বুক চিরে ভেতরে প্রবেশ করলে এক বিশাল শাল গাছের গোড়ায় অবস্থিত শিলবাংলা মহাকাল ধাম।

গোটা বছর সেখানে প্রবেশ নিশিদ্ধ থাকলেও শিব পুজার দিন জঙ্গলের নিয়ম কিছুটা লঘু করেদেয় বনদপ্তর। তবে বিকেল হওয়ার আগেই পুজার্চনা শেষ করে ভক্তদের ছাড়তে হয় সংরক্ষিত বনাঞ্চলের এলাকা। সকাল থেকে দূরদুরান্তের ভক্তরা মানত করে শিব আর গণেশের পুজো দেন জঙ্গলের ভেতর। কেউ খেতের ফসল রক্ষার মানত করে ধান,লবন, সবজি রেখে আসেন জঙ্গলের ভেতর, আবার কারো মানত করে চাকরি লাভ হয়েছে এমন কথিত রয়েছে এই জঙ্গলের পুজাকে ঘিরে। অনেকে আবার মানত করে আকাশে পায়রা উড়িয়ে দিচ্ছেন। প্রথমে একটি শাল গাছকে কেন্দ্র করে মহাকালের পুজো শুরু হয়, বহু প্রাচীন পুজো হলেও এই পুজো লোকমুখে প্রচার পেয়েছে বিগত আট থেকে দশ বছর ধরে। জঙ্গলের ভেতর একেবারে প্রকৃতির কোলে সাদামাঠা এই পুজাতে দিন দিন শিব ভক্তের সমাগম যে হারে বাড়ছে তা সামাল দিতে হিমসিম খেতে হচ্ছে পুজো উদ্যোক্তা এবং বনপ্রশাসনকে।

