বড় কালী মন্দিরে পুজো দিতে পূর্ণার্থীদের ঢল।জলপাইগুড়ি জেলা তথা ডুয়ার্সের প্রাচীনতম এবং জাগ্রত কালী মন্দির গুলোর মধ্যে অন্যতম ধূপগুড়ি মহকুমার কালিরহাটের শতাব্দী প্রাচীন বড় কালী মন্দির। ধূপগুড়ি মহকুমার ছোট্ট একটি জনপথ কালিরহাটে রয়েছে বড়কালী মায়ের মন্দির।এই বড় কলীর নামানুসারে এখানকার এই ছোট জনপদের নাম হয় উঠে কালীরহাট। প্রতিবছর মাঘ সংক্রান্তিতে এই দেবীর বাৎসরিক পুজো হয়ে থাকে। বৃহস্পতিবার গভীর রাত থেকে শুরু হয়েছে কালিরহাট বড় কালী মায়ের বাৎসরিক পুজো। জানা গিয়েছে, এবছর এই পুজো ১২৭ তম বর্ষে পদার্পণ করল। শুক্রবার সকাল থেকে দূর দূরান্তের পূর্ণার্থীরা পুজো দিতে মন্দিরে ভিড় জমিয়েছেন। দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে মন্দিরে প্রবেশ করছেন পূর্ণার্থীরা। প্রথা মেনে প্রতিবছরের মতো এবছরও হচ্ছে শতাধিক পাঁঠা বলি। নিজেদের মনস্কামনা পূরণ করার জন্য মন্দিরে পায়রা উৎসর্গ করছে ভক্তরা। পুজোর পাশাপাশি চলবে পাঁচ দিনব্যাপী মেলা। মন্দিরে পুজো দিয়ে ধূপকাঠি, মোমবাতি জ্বালিয়ে প্রার্থনা করছে ভক্তরা।

প্রতিবছরের মতো এবছরও জলপাইগুড়ি জেলা সহ পার্শ্ববর্তী জেলার বিভিন্ন প্রান্তের পূর্ণার্থীদের ভিড় উপচে পড়েছে। পূর্ণার্থীদের কথায়, বড় কালী মা অত্যন্ত জাগ্রত মায়ের কাছে প্রার্থনা করলে মনস্কামনা পূরণ হয়। মন্দিরের পাশ দিয়েই একটি রাস্তা সোনাখালী পর্যন্ত চলে গেছে। বর্তমানে এই রাস্তাটি পাকা হলেও এক সময় জঙ্গলে ঘেরা ছিল। কথিত রয়েছে একটা সময় দীপান্বিতা অমাবস্যায় পুজো হত। কিন্তু ঘটনাক্রমে এলাকার এক ব্যক্তির একমাত্র ছেলে হারিয়ে যায়। তিনি মা কালীর কাছে প্রার্থনা করেন যদি তার ছেলেকে মা -কালী খুঁজে এনে দেন তাহলে তিনি ফাল্গুন মাসেই পুজো দেবেন। একদিন রাতে সেই ব্যক্তি দেখতে পান তার বাড়িতে ছেলে এসে হাজির। তিনি তার ছেলেকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, “কে তাকে এনে দিল?” তার প্রতি উত্তরে ছেলে বলেছিল যে একজন বৃদ্ধা নিয়ে এসে বাড়িতে পৌঁছে দেয়। কিন্তু কে সেই বৃদ্ধা? অনেক খোঁজাখুঁজির পর বৃদ্ধার আর খোজ পাওয়া যায়নি। তারপর বড় কালী মায়ের স্বপ্নাদেশে সেই থেকেই এখানে ফাল্গুন মাসে পুজো হয়ে থাকে।পুজো এবং মেলায় যাতে অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে সেজন্য মোতায়েন রয়েছে ধূপগুড়ি থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী।

