উত্তরকন্যা অভিযানের ডাক দিয়ে অমরণ অনশনের ঘোষণা করলেন প্রাক্তন কেএলও সদস্যরা। আগামী ১৩ এপ্রিল প্রায় পাঁচ হাজার সমর্থককে সঙ্গে নিয়ে উত্তরকন্যায় অবস্থান-বিক্ষোভ ও অনশন কর্মসূচির কথা ঘোষণা হতেই উত্তরবঙ্গের রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
মঙ্গলবার ধূপগুড়ির কালীরহাট এলাকায় একটি গোপন বৈঠকে বসেন প্রাক্তন কেএলও সদস্যরা। বৈঠক শেষে তাঁরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন দাবি নিয়ে রাজ্য ও কেন্দ্র—দুই সরকারের সঙ্গে আলোচনা হলেও বাস্তবে কোনও প্রতিশ্রুতি পূরণ হয়নি। সেই কারণেই এবার আন্দোলনের পথ বেছে নেওয়ার সিদ্ধান্ত।

প্রাক্তন সদস্যদের অভিযোগ, রাজ্য সরকারের সঙ্গে একাধিক বৈঠকে আশ্বাস মিললেও পুনর্বাসন ও অন্যান্য দাবির ক্ষেত্রে কার্যত বঞ্চনার শিকার হতে হয়েছে তাঁদের। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধেও ক্ষোভ উগরে দেন তাঁরা। তাঁদের দাবি, কেএলও প্রধান জীবন সিংহকে নিয়ে এখনও পর্যন্ত প্রকাশ্যে কোনও শান্তি আলোচনা শুরু হয়নি।
এই পরিস্থিতিতে তিন দফা দাবি সামনে রেখে উত্তরকন্যায় অমরণ অনশনে বসার ঘোষণা করেছেন প্রাক্তন কেএলও সদস্যরা। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, উত্তরবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকায় রাজবংশী সম্প্রদায়ের ভোট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ফলে ভোটের আগে প্রাক্তন কেএলও সদস্যদের এই আন্দোলনের ডাক রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন চাপ তৈরি করতে পারে। ইতিমধ্যেই বিভিন্ন রাজনৈতিক শিবিরে পরিস্থিতি নিয়ে শুরু হয়েছে জোর জল্পনা।

