কোচবিহারের ডাওয়াগুড়ি এলাকায় গত ৯ আগস্ট যুব তৃণমূল নেতা অমর রায় খুনের ঘটনায় অবশেষে মূল অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করল কোচবিহার পুলিশ। এই ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে সিআইডি তদন্তের দাবী জানানো হয়েছে। এদিকে অমরের খুনের ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া মূল অভিযুক্তের নাম বিনয় রায় (৩৫)। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার সকালে অসম-বাংলা সীমানা থেকে বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এই হত্যাকাণ্ডে তার সরাসরি হাত রয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে তদন্তে উঠে এসেছে। এদিন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কৃষ্ণ গোপাল মিনা জানিয়েছে, বিনয় রায়ের বাড়ি কোচবিহারের পুন্ডিবাড়ি থানার অন্তর্গত সিদ্ধেশ্বরীতে হলেও দীর্ঘ সাত বছর ধরে সে জেলার বাইরে ছিল। মূলত শিলিগুড়িতে বসবাস করছিল এবং সেখানে থেকেই একাধিক অসামাজিক কার্যকলাপে যুক্ত ছিল বলে জানা গেছে। পুলিশের হাতে তার বিরুদ্ধে আগেও বিভিন্ন অপরাধমূলক কাজের অভিযোগ এসেছে।

ইতিমধ্যেই তার ক্রিমিনাল রেকর্ড খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অমর রায়ের সঙ্গে ব্যক্তিগত শত্রুতা থেকেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে বলে পুলিশ প্রাথমিকভাবে মনে করছে। দীর্ঘদিন ধরে ব্যক্তিগত বিরোধের জেরে পরিকল্পিতভাবে খুন করা হয় তৃণমূল যুব নেতাকে। গত ৯ আগস্ট, শনিবার ডোডেয়ারহাটে দিন দুপুরে এলাকায় গুলি চালিয়ে খুন করা হয় অমর রায়কে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাজার থেকে ফেরার পথে দুষ্কৃতীরা হঠাৎই তার ওপর গুলি চালায়। পুলিশ তদন্তে উঠে এসেছে, অমরের শরীরে একাধিক গুলি লেগেছিল। দুই রাউন্ড গুলি লাগে তার পেটে এবং দুই রাউন্ড গুলি লাগে মাথায়। ঘটনাস্থল থেকে চারটি গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। ওই হামলায় অমরের গাড়ির চালক আলমগীর হোসেন-ও গুরুতর জখম হন। তাকে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্ত বিনয়ের কাছ থেকে একটি আগ্নেয়াস্ত্র ও চারটি কার্তুজ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তবে তদন্তকারী আধিকারিকদের দাবি, এই হত্যাকাণ্ডে শুধুমাত্র বিনয় নয়, আরও কয়েকজন যুক্ত রয়েছে। তাদের শনাক্ত করার কাজ শুরু হয়েছে। এ বিষয়ে কোচবিহারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কৃষ্ণ গোপাল মিনা বলেন, “অমর রায় খুনের ঘটনায় মূল অভিযুক্তকে আমরা গ্রেপ্তার করেছি। তবে এর পেছনে আরও বেশ কয়েকজন জড়িত আছে বলে আমাদের ধারণা। তদন্ত দ্রুত এগোচ্ছে।”

