সোদপুরের যুবতীর উপর পাশবিক নির্যাতনের অভিযোগ। অভিযুক্ত হাওড়ার একটি পরিবার। সোদপুরের বাসিন্দা এক যুবতীর উপর অমানবিক নির্যাতনের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়।
নির্যাতিতার পরিবার সূত্রে খবর, দীর্ঘদিন ধরে পাশবিক অত্যাচারের শিকার হয়েছে ওই তরুণী। বর্তমানে তিনি সাগর দত্ত মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছেন। সোদপুরের ৩ নম্বর দেশবন্ধু নগরের বাসিন্দা ওই নির্যাতিতা। পরিবারের আর্থিক দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন অল্প বয়সেই। সংসারের অভাব দূর করতে ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টের কাজ করতেন তিনি। কাজের সূত্রেই তাঁর পরিচয় হয় হাওড়া ডোমজুরের বাসিন্দা আরিয়ান খানের সঙ্গে। অভিযোগ, গত ৩১শে ডিসেম্বর আরিয়ান খান কাজের নাম করে ঐ যুবক নিজের ফ্ল্যাটে নিয়ে যায়। সেখানে গিয়ে ওই যুবকের অশ্লীল প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় যুবতির উপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন শুরু হয়।

পরিবারের অভিযোগ, শুধু আরিয়ান নয়, তার মা শ্বেতা খান এবং বোন জোয়া খানও এই বর্বর নির্যাতনে সক্রিয়ভাবে অংশ নেয়। লোহার রড দিয়ে মারধর করা হয় নির্যাতিতাকে। হাত-পা এবং দাঁত ভেঙে দেওয়া হয়। দিনের পর দিন ঘরে আটকে রেখে খেতে দেওয়া হয়নি তাকে। এমনকি তাঁর গোপনাঙ্গে লোহার রড ঢোকানোরও চেষ্টা করা হয় এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয় বলে অভিযোগ। তাঁকে বলা হয়েছিল, ঈদের দিনে তাঁকেও “কুরবানী” দেওয়া হবে। এভাবেই চলতে থাকে অকথ্য নির্যাতন। এরপর ৬ জুন ভোরে কোনও রকম ভাবে পালিয়ে বাড়ি ফিরে আসেন ওই নির্যাতিতা। তাঁর শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় দ্রুত তাঁকে সাগর দত্ত মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন। নির্যাতিতার পরিবার এই ঘটনার বিরুদ্ধে খড়দহ থানার পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছে। ইতিমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনার অজয় ঠাকুর জানান, ঘটনায় অভিযোগ হয়েছে অর্থাৎ খরদা থানায় FIR হলে সেই FIR ট্রান্সফার করা হয়েছে হাওড়া থানায়। বিষয়টি যেহেতু হাওড়া থানার অধিনে তাই হাওড়া থানার পুলিশ কে পাঠানো হয়েছে তদন্তের জন্য।হাওড়া থানায় এফ আই আর হয়েছে এই ঘটনার।

By EXTV

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *