ঘটনাটি আলিপুরদুয়ার ২ নম্বর ব্লকের মহাকাল চৌপতি সংলগ্ন খাতোপাড়া ১২/২৪৩ নম্বর বুথ এলাকায়। জানাগেছে স্থানীয় বাসিন্দা শেফালি বর্মণ দীর্ঘ দিন ধরে টিনের এক জরাজীর্ণ ঘরে বসবাস করেন। পরিবারে কেউ না থাকায় তিনি ভিক্ষাবৃত্তি করে নিজের জীবনযাপন চালান। অভিযোগ, তিনি বাংলার সরকারি আবাস যোজনার ঘরের জন্য আবেদন করেছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে ঘরের আবেদন জানালেও তা মঞ্জুর হয়নি। সম্প্রতি সরকারি ঘর প্রদানের তালিকায় তার নাম আসে। সেই সময় স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্য শুধাবালা রায় এর স্বামী শিবু রায় সরকারি ঘর পাইয়ে দেয়ার জন্য তাঁর কাছে ২০ হাজার টাকা দাবি করেন। কিন্তু ভিক্ষাবৃত্তি করে চলার কারণে শেফালী বর্মন সেই টাকা দিতে পারেননি। কয়েকদিন আগে সরকারি তরফে ঘর প্রদানের চূড়ান্ত তালিকা বের হয়। কিন্তু সেই তালিকায় শেফালী বর্মনের নাম বাদ যায়। এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ শেফালি বর্মণ আলিপুরদুয়ারের জেলা শাসকের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, আর্থিকভাবে অসহায় হওয়ায় এত টাকা দেওয়া তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়। বিষয়টি সামনে আসতেই এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

এদিন শেফালী বর্মণের অভিযোগ প্রকাশ্যে এলে, এলাকার আরো বেশ কয়েকজনের কাছ থেকে শিবু রায় এর বিরুদ্ধে সরকারি ঘরের জন্য টাকা দাবির অভিযোগ সামনে আসে।
তবে অভিযুক্ত পঞ্চায়েত প্রধানের স্বামী শিবু রায় সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। তিনি জানান, যাঁর কথা বলা হচ্ছে তাঁর নিজস্ব জমি নেই, আর সরকারি নিয়ম অনুযায়ী জমি না থাকলে আবাস প্রকল্পের ঘর বরাদ্দ করা যায় না। সমস্ত অভিযোগে রাজনৈতিক চক্রান্ত রয়েছে।
এই বিষয়ে আলিপুরদুয়ার জেলা বিজেপি সভাপতি মিঠু দাস বলেন, একজন ভিক্ষাবৃত্তি করে খাওয়া বৃদ্ধাকে কাটমানি না দেয়ায় তার নাম সরকারি ঘর প্রদানের তালিকায় থেকে বাদ দিয়ে দিচ্ছে তৃণমূল নেতা। এমনকি সরকারি ঘরের জন্য নানান ধরনের জিনিষ আবদার করা হচ্ছে। একজন গরীব মানুষকে ঘরের প্রতিশ্রুতি দিয়ে টাকা মেলায় প্রতারণা করা হচ্ছে। তৃণমূলের নেতার এমন দুর্নীতি ভাবা যায়না, সত্যি লজ্জা জনক।

