জমজমাট বিয়ের আসর তুফানগঞ্জ বিবেকানন্দ পাইকারি সবজি বাজারে। মহিলারা হলুদ শাড়ি পড়ে তুললেন বিয়ের জল। রাতভর পুরোহিতের গম্ভীর মন্ত্রোচ্চারণ, সঙ্গে সানাইয়ের সুর। ছাঁদনাতলা ঘিরে কয়েকশো নিমন্ত্রিতের উচ্ছ্বাস। এইসব যেন ছুঁয়ে যাচ্ছিল বিয়ের সাজে বর-কনেকেও! বাদলের বাতাসে ছন্দে দুলছিল তো ওদের শরীরও!ওরা তো বট আর পাকুড়! বট কনে, পাকুড় বর মঙ্গলবার, ১৩ ই বৈশাখ ওদের বিয়ে হল তুফানগঞ্জ শহরের পাঁচ নং ওয়ার্ডের দোল মেলা মাঠে। বর আর কনেপক্ষ আশপাশের গ্রামের দু’হাজার মানুষ মেতে উঠলেন হিন্দু-মুসলিম— দুই সম্প্রদায়ের বাসিন্দারাই। বিয়ে ঘিরে হল নাচ-গান।

এমনকী, সোশ্যাল মিডিয়াতেও এই বিয়ের সাতকাহন লিখলেন কেউ কেউ। স্থানীয় গ্রামীণ মানুষের বিশ্বাস, বট-পাকুড়ের বিয়ে দিলে এলাকার কল্যাণ হয়, বাসিন্দাদের সম্পদলাভ হয়। এই বিশ্বাস অনেকদিনের। এই বিয়ের অন্যতম উদ্যোক্তা সম্পদ সাহা, নারায়ণ চন্দ্র পাল, মনোজ দত্তরা জানান, দীর্ঘদিন থেকে পরিকল্পনা ছিল বট পাকুরের বিয়ের কিন্তু হয়ে ওঠেনি! একমাস আগে নতুন করে ব্যবসায়ী সমিতির কমিটি গঠন হওয়ার পরে থেকেই প্রধান লক্ষ্য ছিল প্রথমে এই বট পাকুরের বিয়ে দেওয়া আর যেই কথা সেই কাজ। ধুম ধাম করে আয়োজন করা হলো বিয়ে বাজলো বিয়ের সানাই পুরোহিতের গম্ভীর মন্ত্রোচ্চারণের মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হল বট ও পাকুর গাছের বিয়ে। এ বিষয়ে বিয়ের পুরোহিত লুটন চক্রবর্তী জানান পৌরাণিক মতে গ্রামের সাধারণ মানুষের মঙ্গল কামনায় এ বিয়ের আয়োজন করা হয় এবং যারা নিঃসন্তান তারা এই বিয়েতে মনস্কামনা করলে তাদের সন্তান লাভ হয়। বিয়েতে নিমন্ত্রণ করতে তুফানগঞ্জ শহর সহ তুফানগঞ্জ মহকুমার বিভিন্ন এলাকায় মাইকিং করে বাসিন্দাদের আসতে বলা হয়। উদ্যোক্তারা তাদের চেনাপরিচিতদেরও আসতে বলেছিলেন। পাত পেড়ে খেয়েছেন সকলেই। খাবারের তালিকায় ছিল ভাত, ডাল, তরকারি, পাঁপড়, আমের চাটনি। বিয়ে ঘিরে গ্রামবাসীদের মধ্যে উন্মাদনা ছিল চোখে পড়ার মত।

