মালদা: বঙ্গে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠছে রাজনৈতিক পরিবেশ। মালদা জেলার মালতিপুর বিধানসভাতেও তার প্রভাব স্পষ্ট। এই কেন্দ্রে জোরদার প্রচারে নেমে কার্যত ঝড় তুলেছেন সিপিআই(এম) প্রার্থী মিনারুল হোসেন। শুক্রবার গৌরহোন্ড গ্রাম পঞ্চায়েতের বলিয়া, সোনারাই-সহ একাধিক এলাকায় ঘুরে বাড়ি বাড়ি প্রচার চালান তিনি এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ গড়ে তোলেন।
প্রচারের শুরুতেই প্রবীণ সিপিআই(এম) নেতৃত্বের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে আশীর্বাদ নেন মিনারুল। এরপর দলীয় কর্মীদের নিয়ে এলাকায় জনসংযোগে বেরিয়ে পড়েন। মানুষের সমস্যার কথা শোনার পাশাপাশি রাজ্যের বিভিন্ন দুর্নীতি, বেকারত্ব এবং উন্নয়নের অভাবের বিষয় তুলে ধরেন তিনি। এলাকায় তাকে কাছে পেয়ে, বিশেষ করে মহিলাদের মধ্যে উৎসাহ লক্ষ্য করা যায়—অনেকেই দু’হাত তুলে আশীর্বাদ করেন এবং নিজেদের সমস্যার কথা জানান।
এবারের নির্বাচনে জোট ছেড়ে একাই লড়ছে সিপিআই(এম)। তবুও বিভিন্ন এলাকায় প্রচারে গিয়ে ব্যাপক সাড়া পাচ্ছেন বলে দাবি মিনারুল হোসেনের। মানুষের এই সমর্থনই তাদের লড়াইকে আরও শক্তিশালী করছে বলে তিনি মনে করেন।

প্রচার শেষে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তৃণমূল প্রার্থী আব্দুল রহিম বক্সীকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন তিনি। মিনারুলের অভিযোগ, “বারবার দল বদল করা নেতাদের উপর মানুষ আর ভরসা রাখছে না। তৃণমূল প্রার্থী একজন ‘চিটার’—এলাকার মানুষ তা ভালো করেই জানেন।” পাশাপাশি তিনি দাবি করেন, “এলাকায় উন্নয়ন হয়েছে শুধুমাত্র শাসকদলের ঘনিষ্ঠদের। সাধারণ মানুষ এখনও বঞ্চিত। যারা ‘দিদির ভাই’, তারাই সুবিধা পাচ্ছেন।”
তিনি আরও বলেন, আগে আরএসপি-তে থাকা অনেক নেতা এখন তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন, কিন্তু মানুষ তাদের প্রকৃত চেহারা বুঝে গিয়েছে। “এবার মানুষই যোগ্য জবাব দেবে,” বলে দাবি তার। একই সঙ্গে তিনি আশ্বাস দেন, “আমরা সবসময় মানুষের পাশে ছিলাম, এখনও আছি এবং ভবিষ্যতেও থাকব।”
তবে মালতিপুর বিধানসভায় এবার লড়াই অত্যন্ত হাই ভোল্টেজ হয়ে উঠেছে। চতুর্মুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় প্রতিটি দলই নিজেদের জয় নিয়ে আশাবাদী। তৃণমূল প্রার্থী আব্দুল রহিম বক্সী জেলা সভাপতির দায়িত্বে থাকায় তার সংগঠনগত শক্তিও যথেষ্ট। ফলে প্রশ্ন উঠছে—এই আসন কি আবারও ধরে রাখতে পারবে শাসক দল, নাকি বদলে যাবে সমীকরণ?
এ বিষয়ে তৃণমূল প্রার্থী আব্দুল রহিম বক্সীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “আমি এই বিষয়ে কিছু বলব না। সাধারণ মানুষই ভোটের দিন জবাব দেবেন।”

