জমানো টাকা না পাওয়ায় বিনা চিকিৎসায় হারিয়েছেন স্বামীকে, নিত্য দিন তালা বন্ধ সমবায় সমিতির অফিসে খালি হাতে ফিরে যাওয়াটাই যেন রুটিন, অভিযোগের তীর চেয়াম্যান পদে থাকা তৃণমুল নেতার জলপাইগুড়ি সেন্ট্রাল কো অপারেটিভ ব্যাংকের বিরুদ্ধে।
পাসবুক হাতে কৃষি সমবায় ব্যাংকের সামনে ধরনায় গ্রাহকরা! অভিযোগ, প্রায় এক বছর ধরে বন্ধ জলপাইগুড়ি সেন্ট্রাল কো অপারেটিভ ব্যাংক অনুমোদিত ধূপগুড়ির ৯ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তরবোড়াগারির দাম বাড়ী সমবায় কৃষি উন্নয়ন সমিতি। খেটে খাওয়া মানুষগুলোর তিল তিল করে জমানো অর্থ গচ্ছিত ছিল এই ব্যাংকেই। নিজেদের জমানো টাকা তুলতে না পেরে সমস্যায় এলাকার মানুষ। ব্যাংকের সামনে পাসবুক হাতে নিয়ে ধরনায় ব্যাংক উপভোক্তারা।
এদিনও জমানো টাকা তুলতে এসে কান্নায় ভেঙে পড়লেন স্বামী হারা আরতি দাস, ঘটনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন,জমি বিক্রি করে এই সমবায় সমিতিতে টাকা রেখেছিলাম, কিন্তু সেই টাকা সময় মতো তুলতে পারিনি কারন টাকা নিতে এলেই বলেছে ,জলপাইগুড়ি থেকে টাকা পাঠায় নি। ( বাইট ১, গ্রাহক)যদিও এই প্রসঙ্গে জলপাইগুড়ি সেন্ট্রাল কো অপারেটিভ ব্যাংকের বর্তমান চেয়ারম্যান তথা প্রাক্তন বিধায়ক এবং জলপাইগুড়ি জেলা তৃণমুল কংগ্রেস কমিটির সভাপতি সৌরভ চক্রবর্তীর সঙ্গে টেলি ফোনে বার বার বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম দারা যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তিনি বিষয়টি নিয়ে কোনো মন্তব্য না করে এড়িয়ে যান।

প্রায় এক বছর ধরে রোজ দিন নিজের জমা রাখা তুলতে আশা মিনা শীল বলেন, ছেলেটার এক্সিডেন্ট হয়েছিল তাকে বাঁচানোর জন্য জমানো টাকা তুলতে এসে মাত্র ৭ হাজার টাকা পেয়েছিলাম, তারপর থেকে রোজ দিন এখানে এসে ধর্না দিচ্ছি ,কিন্তু ম্যানেজার বলে ওপর মহল থেকে টাকা আসেনি, কিন্তু আমরা তো এই ব্যাংকে টাকা রেখেছি ,ওপর মহল কে সেটাতো আমাদের জানার কথা নয়। ( বাইট২, গ্রাহক).
অপর এক গ্রাহক স্বরুপ রায় বলেন , ৭ লক্ষ টাকা জমা করা আছে, কিন্তু এক বছর ধরে বন্ধ ব্যাংক , পাচ্ছেন না নিজের জমানো টাকা। ( বাইট৪)।
ঘটনা প্রসঙ্গে স্থানিয় বিজেপি নেতৃত্ব নরেশ চন্দ্র রায় বলেন, এক বছর ধরে মানুষ গুলো টাকা পাচ্ছেন না, আসলে গোটা রাজ্যে জুড়েই লুটপাট চলছে, এটাও তারই অংশ।

