দিন প্রতিদিন নিজের ঐতিহ্য হারাতে বসেছে একাধিক নদনদী। শিলিগুড়ির বুক চিরে বয়ে চলা একাধিক নদ-নদী এখন নিজের পরিচিতি হারিয়েছে। তার মধ্যে এক অন্যতম নদী হল সাহু নদী। আর এবার সেই নদীকেই বাঁচাতে ধ্রুপদী সংগীতানুষ্ঠানের আয়োজন করা হলো শহর শিলিগুড়িতে।
শিলিগুড়ি সুভাষপল্লী অবস্থিত ইচ্ছেবাড়ি নামক এক সংস্থার সদস্যা তথা কুড়ি নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর অভয়া বসুর উদ্যোগে এই ইচ্ছে বাহার অনুষ্ঠানের আয়োজন। মূলত জানা যায়, নদী যেমন তার প্রবাহের মাধ্যমে জীবন ও সংস্কৃতিকে বহন করে, তেমনই ধ্রুপদী সঙ্গীত কালজয়ী সুরের ধারাকে বহন করে যুগ থেকে যুগান্তরে। নদীর স্রোতের মতোই ধ্রুপদী সঙ্গীতের প্রতিটি রাগ ও স্বরধারা এক অবিরাম প্রবাহ সৃষ্টি করে, যা মানুষের মনকে স্নিগ্ধতা ও প্রশান্তিতে ভরিয়ে দেয়।

এই ধারণার উপর ভিত্তি করে আয়োজিত “ইচ্ছেবাহার” শুধুমাত্র সঙ্গীতের এক মহোৎসব নয়, বরং এটি প্রকৃতি ও সুরের এক অপূর্ব মিলনক্ষেত্র। এছাড়াও এই উৎসবে পরিচিত ধ্রুপদী সঙ্গীতের বিখ্যাত শিল্পীরা তাঁদের সুরের ধারায় নদীর প্রবাহ, ছন্দ ও অনুভূতিকে তুলে ধরেন।
ইচ্ছেবাড়ি সংস্থার সদস্যা অভয়া বসু বলেন, এই উৎসবের মূল উদ্দেশ্য হল—নদী ও সঙ্গীতের গভীর সংযোগকে উপলব্ধি করা, প্রকৃতি ও সংস্কৃতির মেলবন্ধন তৈরি করা, এবং ধ্রুপদী সঙ্গীতের ঐতিহ্যকে নবপ্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়া। ঠিক যেমন নদী সভ্যতার ভিত্তি গড়ে তোলে, তেমনই সঙ্গীত মানুষের আত্মার পরিশুদ্ধি ঘটায়। এই উৎসব তাই একপ্রকার সুরের নদী, যা প্রবাহিত হয় হৃদয়ের গভীরে, বহন করে ঐতিহ্যের ধারা, আর মিলিয়ে যায় এক অনন্ত সঙ্গীতসমুদ্রে।

