বুধবার ত্রিপুরা বিধানসভার বাজেট অধিবেশনের চতুর্থ দিনে বিধানসভার অধ্যক্ষ বিশ্ববন্ধু সেনের ভূমিকার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বিধানসভার চলতি বাজেট অধিবেশনের বাকি দিনগুলো বয়কট করেছে বিরোধী দল সিপিআইএম। এক সাংবাদিক সম্মেলন করে বিরোধী দলনেতা তথা সিপিআইএম দলের রাজ্য সম্পাদক জিতেন্দ্র চৌধুরী বললেন, ত্রিপুরার পবিত্র বিধানসভায় বিরোধীদের কন্ঠরোধ করছেন অধ্যক্ষ বিশ্ববন্ধু সেন। আসলে বিধানসভার অধ্যক্ষের হাতে গণতন্ত্র জব্দ হচ্ছে। তাই, বিধানসভার চলতি বাজেট অধিবেশনের বাকি দিনগুলো বয়কট করলো সিপিআইএম দল। বিরোধী দলনেতা জিতেন্দ্র চৌধুরীর দাবি, বিজেপি সরকারের আমলে ত্রিপুরা বিধানসভায় গণতন্ত্রকে হত্যা করা হয়েছে। আজকের দিনটি কলঙ্কিত অধ্যায় হয়ে থাকবে ত্রিপুরা বিধানসভায়।

উল্লেখ্য, গত ২৪ শে মার্চ ত্রিপুরা বিধানসভায় রীতি অনুযায়ী প্রস্তাবিত বাজেটের উপর আলেচনা আলোচনা রাখতে গিয়ে বর্তমান ত্রিপুরা সরকারের মুষ্টিমেয় লোক জনগণের অর্থ-সম্পদ লুটছে বলে অভিযোগ তুলেন বিরোধী দলনেতা জিতেন্দ্র চৌধুরী। কমিশন বা কাটমানির বাণিজ্য চালাচ্ছে এই মুষ্টিমেয় লোক আভিযোগ তুলেন তিনি। তখনই পরিষদীয় তথা বিদ্যুৎ মন্ত্রী রতন লাল নাথ অপমানজনক মন্তব্য করতে থাকেন বিরোধী দলনেতা জিতেন্দ্র চৌধুরীকে। পবিত্র বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা জিতেন্দ্র চৌধুরীকে জাত নিয়ে মন্তব্য করেন মন্ত্রী রতন লাল নাথ বলে অভিযোগ বিরোধী দলনেতা জিতেন্দ্র চৌধুরীর। এরই পরিপ্রেক্ষিতে পরিষদীয় তথা বিদ্যুৎ মন্ত্রী রতন লাল নাথের বিরুদ্ধে স্বাধিকার ভঙ্গের নোটিশ দিয়েছেন তিনি। এবিষয়ে অধ্যক্ষ বিশ্ববন্ধু সেন বিধানসভায় বললেন, দুইটি স্বাধিকার ভঙ্গের নোটিশ জমা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু অধ্যক্ষের দাবি, প্রথম পরিষদীয় মন্ত্রী রতন লাল নাথ স্বাধিকার ভাঙ্গনের নোটিশ জমা দিয়েছেন। তাই দ্বিতীয় নোটিশ গ্ৰহণ না করে পরিষদীয় মন্ত্রীর উত্থাপিত স্বাধিকার ভাঙ্গনের নোটিশ তিনি গ্রহণ করেছেন। এদিকে বিরোধী দলনেতা জিতেন্দ্র চৌধুরীর দাবি, তিনি পরিষদীয় মন্ত্রী রতন লাল নাথের আগেই নোটিশ জমা দিয়েছেন। আসলে, নিজের অস্তিত্বকে অস্বীকার করে পবিত্র বিধানসভার গাড়িমাকে নষ্ট করেছেন অধ্যক্ষ বিশ্ববন্ধু সেন, বিস্ফোরক মন্তব্য করে বললেন বিরোধী দলনেতা জিতেন্দ্র চৌধুরী।

