সরকারি কোষাগরের লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করলেও আদতে দুর্যোগ মোকাবেলা দপ্তর প্রয়োজনের সময় কতটা ব্যর্থ তার দৃষ্টান্ত মঙ্গলবার আরও একবার স্থাপিত হয়েছে ত্রিপুরা খোয়াই জেলা তেলিয়ামুড়া থানার অন্তর্গত চাকমাঘাট এলাকায় । শুধুমাত্র তেলিয়ামুড়া মহকুমা প্রশাসনের প্রয়োজনীয় ভূমিকার অভাবে এবং দুর্যোগ মোকাবেলা দপ্তরের প্রয়োজনীয় উদ্যোগের অভাব একটি দুর্ঘটনা গ্রস্থ গাড়ির চালককে বাঁচাতে পারেনি প্রশাসন। শত শত মানুষের সামনে সেই গাড়ি চালক দীর্ঘ ৫ ঘন্টা কাতরাতে-কাতরাতে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। জানা যায়, রাত আনুমানিক আড়াইটা নাগাদ চাকমাঘাট এলাকাতে জাতীয় সড়কের উপর ধর্মনগর থেকে আগরতলা গামী সিমেন্ট বোঝাই একটি লরি দুর্ঘটনা গ্রস্ত হয়। এই দুর্ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট গাড়ি চালক দুর্ঘটনা গ্রস্থ হওয়ার পর গাড়ি থেকে বের হতে পারছিলেন না। এই দুর্ঘটনার ফলে গাড়ির সামনের অংশ চেপে গিয়ে চালকের শরীরের সাথে যুক্ত হয়ে গিয়েছিল।

এই অবস্থাতে উত্তর জেলা কাঞ্চনপুর এলাকার মাখনলাল দেবনাথের ছেলে মিহির লাল দেবনাথ বারবার কাতর ভাবে বাঁচার চেষ্টা করছিল। বারবার অনুনয় করছিল কোনভাবে তাকে এখান থেকে বার করা হোক। কিন্তু, দুঃখের বিষয় দুর্ঘটনার প্রায় ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা সময় পর্যন্ত তেলিয়ামুড়া মহকুমা প্রশাসন কিংবা সরকারি কোষাগারের টাকায় পুষ্ট দুর্যোগ মোকাবিলা দপ্তর অগ্নি নির্বাপক দপ্তরকে সাথে নিয়ে মৃত্যু পথযাত্রী মিহির লাল দেবনাথকে উদ্ধার করতে পারেনি। যদিও দুই থেকে তিনজন দুর্যোগ মোকাবিলা দপ্তরের কর্মী কোনভাবে উপস্থিত হয়েছিল কিছু একটা আয়রন কাটার যন্ত্র নিয়ে ঘটনাস্থলে, কিন্তু, সেটাও কাজ করছিল না বলে খবর, এর পাশাপাশি ডেপুটি কালেক্টর এন্ড ম্যাজিস্ট্রেট দুর্ঘটনা ঘটার প্রায় ৭ ঘন্টা পর ঘটনাস্থলে গিয়ে উপস্থিত হয়। বর্তমানে এলাকার মানুষ সম্মিলিতভাবে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন, এইভাবে প্রশাসনিক গাফিলতির কারণে দুর্ঘটনাগ্রস্থ এক গাড়ির চালকের করুন পরিণতির জন্য। এই দুর্ঘটনা একদিকে যেমন ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি করেছে ঠিক অন্যদিকে আরও একবার প্রমাণ করলো যতই কাগজে-কলমে দুর্ঘটনা মোকাবেলায় দুর্যোগ মোকাবিলা বিভাগকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হোক না কেন, আসলে সবাই রীতিমতো ব্যর্থ হিসেবে পরিচয় বহন করে।

