মৃ*ত ব্যক্তির পরিবারকে হুমকি দিয়ে ভুল মৃ*ত্যুর কারণ বলিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে, যা ঘিরে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।অস্বাভাবিক মৃত্যুর কারণ কেন্দ্র করে রাজনীতি করার অভিযোগে চাঞ্চল্য।
অভিযোগ, গত বৃহস্পতিবার ধূপগুড়ির গধেয়ারকুঠির ভান্ডানি এলাকায় একটি বাঁশঝাড় থেকে পরেশ সরকার যার বয়স ৬১ বছর নামে এক ব্যক্তির ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। ঘটনার পর প্রতিবেশীদের একাংশ দাবি করেন, ভুট্টা চাষ নষ্ট হয়ে যাওয়ার কারণে মানসিক অবসাদে তিনি আত্মহত্যা করেছেন।

শনিবার ঘটনায় নতুন মোড় আসে। মৃ*তের ছেলে প্রদীপ সরকার অভিযোগ করে জানান, তার বাবার মৃ*ত্যু অন্য কারণে হয়েছে। ভুট্টা চাষের জন্য নয়। তিনি বলেন, এর আগেও তার বাবা আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু এলাকাবাসীরা দেখতে পেয়ে তাকে উদ্ধার করেন। গত বৃহস্পতিবার বাড়ির পাশের বাঁশঝাড়ে তার বাবার ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। এরপর কয়েকজন ব্যক্তি এসে তাকে হুমকি দেন এবং মৃত্যুর কারণ হিসেবে আলু ও ভুট্টা চাষে ক্ষতির কথা বলতে বাধ্য করেন বলে অভিযোগ। ভয়ের কারণে তিনি প্রথমে সেই কথাই বলেছিলেন বলে জানান তিনি। তবে তার দাবি, ভুট্টা চাষের কারণে তার বাবার মৃত্যু হয়নি; মৃত্যুর অন্য কারণ ছিল। বিষয়টি স্বীকার করে নেন এলাকার বিজেপির প্রধান বিজয় চন্দ্র রায়। তিনি বলেন, মৃত ব্যক্তি আলু বা ভুট্টা চাষ করেনি। একজনের মৃত্যু ব্যক্তি নিয়ে রাজনীতি করা হচ্ছে।
মৃতের ছেলে আরও অভিযোগ করেন, বিজেপির প্রার্থী লোকজন নিয়ে তাদের বাড়িতে এসে চাপ সৃষ্টি করেন এবং তারা যা বলবেন তাই বলতে বলেন। একই অভিযোগ করেন এলাকার কয়েকজন প্রতিবেশীও। তাদের দাবি, বিজেপি ও সিপিএমের প্রার্থীরা মৃতের পরিবারকে প্রভাবিত করে ভুল বক্তব্য দেওয়ানোর চেষ্টা করেছেন।
ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছে শাসকদল। তাদের বক্তব্য, একজন মৃত ব্যক্তির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে রাজনীতি করা অত্যন্ত নিন্দনীয় এবং অমানবিক। যদিও বিজেপির পক্ষ থেকে পাল্টা দাবি করা হয়েছে, আর্থিক অনটন ও ফসলের ক্ষতির কারণেই ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। পাশাপাশি তাদের অভিযোগ, শাসকদলই পরিবারের উপর চাপ সৃষ্টি করে ঘটনার মোড় ঘোরানোর চেষ্টা করছে।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। প্রশাসন বিষয়টি খতিয়ে দেখছে বলে জানা গেছে।

