বন্যাকালীন ত্রাণের খাবার, গ্যাস ও রান্নার বাবদ বকেয়া টাকা না মেটানোর অভিযোগে গধেয়ারকুঠি গ্রাম পঞ্চায়েত অফিসে তালা ঝোলালেন সরবরাহকারীরা। বুধবার সকালে পঞ্চায়েত কার্যালয়ের সামনে ধর্নায় বসেন ঘুঘনি সরবরাহকারী, গ্যাস ব্যবসায়ী ও রান্নার কাজে যুক্ত ব্যক্তিরা।
গত অক্টোবরের বন্যায় গধেয়ারকুঠি এলাকার বিস্তীর্ণ অংশ প্লাবিত হয়। বিভিন্ন ত্রাণশিবিরে আশ্রয় নেন বহু মানুষ। সেই সময় ত্রাণশিবিরে খাবার ও রান্নার ব্যবস্থা করা হয়। অভিযোগ, লিখিত ওয়ার্ক অর্ডার ছাড়াই মৌখিক নির্দেশে স্থানীয়দের দিয়ে খাবার সরবরাহ ও রান্নার কাজ করানো হয়।

স্থানীয় ঘুঘনি বিক্রেতা সুরুচি রায়ের দাবি, তিন দিন ত্রাণশিবিরে ঘুঘনি সরবরাহ করে তাঁর ৭০ হাজার টাকার বিল হয়েছে। প্রধান ব্যক্তিগতভাবে ৪ হাজার টাকা দিলেও বাকি টাকা এখনও মেলেনি।
গধেয়ারকুঠির বাসিন্দা খগেশ্বর রায় জানান, ব্লক প্রশাসনের টেন্ডার অনুযায়ী তিনি বিভিন্ন ত্রাণশিবিরে গ্যাস ও শ্রমিক সরবরাহ করেছেন। প্রায় ২৫ লক্ষ টাকা বকেয়া রয়েছে।
ত্রাণশিবিরে রান্নার দায়িত্বে থাকা সুবল রায়ের অভিযোগ, চার মাস কেটে গেলেও রান্নার সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের কোনও পারিশ্রমিক মেলেনি। একাধিকবার গ্রাম পঞ্চায়েত ও ব্লক প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েও সমাধান হয়নি বলে দাবি তাঁদের। এদিন বিক্ষুব্ধরা পঞ্চায়েত অফিসের গেটে তালা লাগিয়ে দেন। তাঁদের হুঁশিয়ারি, দ্রুত বকেয়া মেটানো না হলে আদালতের দ্বারস্থ হবেন।
ব্লক প্রশাসনের এক আধিকারিক জানান, বিলের পরিমাণ নিয়ে কিছু সংশয় থাকায় বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। গধেয়ারকুঠি গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান বিজয় রায় বলেন, ব্লক থেকে ফান্ড এলেই বকেয়া মিটিয়ে দেওয়া হবে।

