একের পর এক অভিযোগ উঠতে শুরু করেছে ত্রিপুরা সিপাহীজলা জেলা বিশ্রামগঞ্জ থানার পুলিশের বিরুদ্ধে। গত কয়েকদিন আগে বিশ্রামগঞ্জ থানার অ্যাসিস্ট্যান্ট সাব ইন্সপেক্টর বিবেকানন্দ দেববর্মা গত ১৪ই মার্চ এক যুবকের কাছ থেকে রাতে আগরতলা-উদয়পুর জাতীয় সড়কে গাড়ি আটকে গুগল পে এর মাধ্যমে টাকা আদায়ের অভিযোগে চাকুরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। সেই সাথে পুলিশের গাড়িচালক তথা SPO পার্থ দাস এবং পুলিশ কনস্টেবল বুদরাই দেববর্মার বিরুদ্ধে ও ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই আবারো এক অসহায় মহিলার স্বামীকে বাঁচাতে বিশ্রামগঞ্জ থানার সাব ইন্সপেক্টর সুমন সরকার এক অসহায় স্ত্রীর কাছ থেকে ১ লক্ষ ৯০ হাজার টাকা ঘুষ দিয়েছে বলে থানার একেবারে মূল প্রবেশদ্বারের সামনে মাটিতে লুটিয়ে লুটিয়ে দু’চোখে জল নিয়ে চিৎকার করে পুলিশের সাব ইন্সপেক্টর সুমন সরকারের বিরুদ্ধে এই বিস্ফোরক অভিযোগ করেন অসহায় স্ত্রী বুল্টি শর্মা। তার স্বামীর নাম সঞ্জয় শর্মা, গত ২৩/০৯/২০২৪ তারিখে বিশ্রামগঞ্জ দশরথ পল্লী এলাকায় সঞ্জয় শর্মার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে পুলিশ উদ্ধার করে প্রচুর পরিমাণ নেশার এসকফ এবং বিভিন্ন নেশা জাতীয় সামগ্রী।তার বিরুদ্ধে এনডিপিএস ধরায় মামলা গ্রহণ করে বিশ্রামগঞ্জ থানার পুলিশ। মামলা নম্বর ১৮/২০২৪ বিশ্রামগঞ্জ থানার তৎকালীন প্রাইভেট গাড়ির চালক প্রসেনজিৎ দাসকে দিয়ে সাব ইন্সপেক্টর সুমন সরকার খবর পাঠায় আসামী সঞ্জয় শর্মার স্ত্রীর কাছে, তাকে পুলিশ বেইলের ব্যবস্থা করে দেবে। তার চার্জশিট আদালতে পাঠাবে না। এই বলে মহিলার কাছ থেকে চার লক্ষ টাকা ডিমান্ড করে অভিযুক্ত পুলিশের অ্যাসিস্ট্যান্ট সাব ইন্সপেক্টর সুমন সরকার। এরপর আসামী সঞ্জয় শর্মার স্ত্রী গাড়ির ড্রাইভার এবং পুলিশ অফিসার সুমন সরকারকে জানায় তার পক্ষে চার লক্ষ টাকা দেওয়া সম্ভব নয়। অনেক কষ্ট করে মহিলা বাড়ির গ্যাস সিলিন্ডার, গলার স্বর্ণের চেন, ছোট-ছোট তার দুই শিশুর স্কুলের টিফিনের জন্য জমানো কয়েন দিয়েও পুরো টাকা জোগাতে পারেনি। যার ফলে বাধ্য হয়ে মহিলা আগরতলা হাঁপানিয়া ডঃ বি আর আম্বেদকর হাসপাতালে এক মুমূর্ষ রোগীকে ৫০০০ টাকার বিনিময়ে রক্ত দিয়ে সেই টাকাটা ও পুলিশের হাতে তুলে দেয়। এরপরেও বিশ্রামগঞ্জ থানার সাব ইন্সপেক্টর সুমন সরকার আসামী সঞ্জয় শর্মার বিরুদ্ধে চার্জশিট পাঠিয়ে দেয় বলে অভিযোগ করে বললেন অসহায় স্ত্রী। আজ বেইল হওয়ার কথা ছিল আসামী সঞ্জয় শর্মার । কিন্তু, তার বেইল হয়নি। বিগত ছয় মাস ধরে জেলে রয়েছে আসামী সঞ্জয় শর্মা। আরো তাকে সাত থেকে আট মাস জেলে থাকতে হবে। আজ বেইল না হওয়ায় বিশ্রামগঞ্জ থানায় এসে থানার দরজার সামনে মাটিতে লুটিয়ে চিৎকার করে অভিযুক্ত পুলিশের সাব-ইন্সপেক্টর সুমন সরকারের বিরুদ্ধে ঘোষ নেওয়ার অভিযোগ তুলে কাঁদতে থাকেন অসহায় স্ত্রী । বহুবার এসআই সুমন সরকারকে ফোন করেছেন তিনি। কিন্তু, এস আই সুমন সরকার ফোন রিসিভ করেননি বলে সাড়ে তিন বছরের ছোট্ট শিশু সায়ন্তিকা শর্মাকে নিয়ে থানায় এসে দু:চোখে জল নিয়ে সংবাদ মাধ্যমের সামনে পুরো ঘটনা তুলে ধরে ত্রিপুরা বিশ্রামগঞ্জ থানার পুলিশের বিরুদ্ধে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী এবং পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ যেন যেন কঠোর ব্যবস্থা নেন তার বিচার চেয়েছেন অসহায় মহিলা।

By EXTV

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *