দুনিয়া এখন এভাবেই এগোচ্ছে। বাজারে সবজি বিক্রেতা রাস্তায় ফুচকার দোকান থেকে শুরু করে বড় বড় শপিং মল সমস্ত জায়গাতেই এই কিউ আর কোডের সুবিধা নিচ্ছে সবাই। আর এই সুবিধাকে কাজে লাগিয়েই প্রতারণা করছিল আলিপুরদুয়ার জেলার অসম-বাংলা সীমানা ঘেঁষা পাকরীগুড়ি এলাকার এক যুবক শরিফুল শেখ।এমনটাই অভিযোগ করছেন অনলাইনে লেনদেন করা ব্যবসায়ীরা।
আলিপুরদুয়ার জেলা ও কোচবিহার জেলার সীমানা এলাকার সেলটেক্স ও নাজিরান দেউতিখাতা এলাকায় বহু অনলাইনের দোকান রয়েছে। সেই অনলাইনের দোকানে টাকা তোলার নাম করে সেই দোকানের কিউ আর কোড ফটো তুলে তৎক্ষণাৎ পাঠিয়ে দিতো অন্য কারো কাছে।সেই কথা মোতাবেক টাকাও ঢুকতো সেই অনলাইনের দোকানের ব্যাংক একাউন্টে দোকান মালিকও সেই টাকা গুনে তার হাতে দিয়ে দিত। আর কিছুদিন যেতে না যেতেই সেই অনলাইন ব্যবসায়ীর একাউন্ট হয়ে যেত ফ্রিজ। কারণ জানতে ব্যাংকে যোগাযোগ করলে জানতে পারে তার একাউন্টে সাইবার প্রতারণার অভিযোগে একাউন্টি ফ্রিজ করা হয়েছে। তাতেই অনলাইন ব্যবসায়ীদের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়ে যায়।

এমন করেই সেল ট্যাক্স ও নাজিরান দেউটি খাতা এলাকার অনেক দোকান মালিকই সাইবার প্রতারণায় ঝামেলায় পড়েছেন। পরবর্তী সময় তারা বুঝতে পারেন যে ,পাকরীগুরি ওই যুবকের কারসাজির ফল। জানা গিয়েছে, ওই যুবক তার ইলেকট্রনিক ডিভাইস যেমন ল্যাপটপ ইত্যাদি বিক্রি করার নামে দোকানের কিউ আর কোড পাঠিয়ে দিতো যে কিনবে সেই গ্রাহকের কাছে , সেই গ্রাহক সেই ইলেকট্রনিক ডিভাইস না পেয়ে বা ডিভাইসটি খারাপ অবস্থায় পেয়ে তিনি সাইবার প্রতারণার দ্বারস্থ হতেন। আর আর যেই একাউন্টে টাকা পাঠিয়েছে সেই অ্যাকাউন্ট হয়ে যেত ফ্রিজ।
অনলাইন ব্যবসায়ীরা সেই ফাঁদ বুঝতে পেরে শুক্রবার ওই যুবক শরিফুল শেখ’কে হাতেনাতে ধরে ফেলে । তার ব্যাগ থেকে উদ্ধার হয় স্ক্যানার মেশিন, বায়োমেট্রিক মেশিন, কম্পিউটার কিবোর্ড, মাউস, সহ অসমের সরকারি অফিসের শীল মোহর। ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় বক্সিরহাট থানার অন্তর্গত জোড়ায় ফাঁড়ির পুলিশ। যুবক সহ তার কাছে উদ্ধার হওয়া সরঞ্জাম গুলো নিয়ে যায় পুলিশ।

