আগরতলা মহারাজগঞ্জ পাইকারি ফল ব্যবসায়ীর উদ্যোগে বিগত ৫৬ বছর ধরে চলে আসা ব্রম্মা এবং শীতলা মায়ের পুজোর বিসর্জন পর্ব রবিবার আনন্দ ও উল্লাসের মধ্য দিয়ে সমাপ্ত হল। সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে আগরতলা মহারাজগঞ্জ পাইকারি বাজারের সম্পাদক দেবাশীষ দত্ত এবং পুজো কমিটির সম্পাদক বিষ্ণুপদ পাল জানিয়েছেন, আজ থেকে আনুমানিক ৩০ বছর আগে ভয়াবহ আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছিল আগরতলা মহারাজগঞ্জ বাজারের বেশ কিছু দোকানপাট। তারপর থেকেই ভয়াবহ আগুন থেকে রক্ষা পেতে প্রত্যেক বছর ব্রহ্মা ও শীতলা মায়ের পুজো করা হচ্ছে।

ব্রহ্মা, বিষ্ণু, ও মহেশ্বরকে যথাক্রমে সৃষ্টি, স্থিতি ও প্রলয়ের অধীশ্বর বলে মনে করা হয়। এই তিন জনের মধ্যে শিবের পুজো ভারতে অত্যন্ত জনপ্রিয়। নানা রূপে বিষ্ণুর পুজো ও যথেষ্ট প্রচলিত। ব্রহ্মাকে বলা হয় বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের সৃষ্টিকর্তা। যার কারনে আজ এই বিশ্বব্রহ্মাণ্ড তৈরি তারই পুজার প্রচলন নেই। ব্রহ্মা কেন পূজিত হন না, তার কিছু শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যাও রয়েছে। পুরাণে কথিত হয়েছে, ব্রহ্মা যখন সৃষ্টি প্রক্রিয়া চালাচ্ছেন তখনই নিজের কাজের সুবিধার জন্য এক সুন্দরী নারীকে তৈরি করেন তিনি। শতরূপা, গায়ত্রী, সরস্বতী, সাবিত্রী বা ব্রহ্মাণী নামে পরিচিতা সেই নারীর প্রতি কামাসক্ত হয়ে পড়েন ব্রহ্মা। শতরূপা ব্রহ্মার চোখের আড়াল হওয়ার চেষ্টা করতে থাকেন। তাঁর উপর নজর রাখতে নিজের ঘাড়ের উপর পাঁচদিকে পাঁচটি মাথা তৈরি হয়ে যায় ব্রহ্মার। শতরূপা তখন ব্রহ্মার কামাবেগ থেকে নিজেকে বাঁচাতে নানা পশুর ছদ্মবেশ ধরে পালাতে থাকেন। ব্রহ্মাও একে একে সেইসব পশুর পুরুষ রূপ ধারণ করে শতরূপার পিছু নেন। বলা হয়, এইভাবেই তৈরি হয় জীবকূল। শতরূপা বাঁচতে একটি গুহার ভিতর আশ্রয় নেন। ব্রহ্মা সেই গুহাতেই মিলিত হন শতরূপার সঙ্গে। শতরূপা ছিলেন ব্রহ্মার কন্যা। কিন্তু তাঁর সঙ্গেই মিলিত হন ব্রহ্মা। এই অবৈধ যৌনাচারের অপরাধে শিব ব্রহ্মার পঞ্চম মাথাটি কেটে দেন, এব‌ং অভিশাপ দেন যে, ধরাধামে কেউ ব্রহ্মার পূজা করবে না। কিন্তু, ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের হাত থেকে বাঁচতে আজ মানুষ ব্রহ্মার পুজো করছেন বলে শাস্ত্রে কথিত আছে।
ভিও

By EXTV

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *