কন্যা সন্তানকে দা দিয়ে কেটে রান্না করে মাংস খাওয়ার হুমকি রাক্ষসরুপি পিতা গৌতম ঘোষের!
কেন্দ্রীয় নারী ও শিশু বিকাশ মন্ত্রক , স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রক এবং মানবসম্পদ মন্ত্রকের পারস্পরিক প্রচেষ্টার সমন্বয়ে রূপায়িত হচ্ছে বেটি বাঁচাও বেটি পড়াও কর্মসূচি। পুত্র সন্তানের পাশাপাশি কন্যা সন্তানদের জন্য ও আমাদের সমান গর্বিত হওয়া উচিত। কিন্তু, ভারতের ছোট্ট পার্বত্য ত্রিপুরা রাজ্যের খয়েরপুর দাসপাড়ায় এমন একটি ঘটনা সামনে এসেছে যা দেখলে এবং শুনলে পরে শরীরের পশম শিরশিরী দিয়ে উঠবে। মেয়েরা হচ্ছে ঘরের লক্ষ্মী। তিন মাসের কন্যা সন্তানকে মারধর সহ বিক্রি করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছিল শিশুটির রাক্ষসরুপি পিতা গৌতম ঘোষের বিরুদ্ধে। জানা গেছে, খয়েরপুর দাসপাড়া এলাকার প্রাণ গোপাল ঘোষের ছেলে গৌতম ঘোষ গত এক বছর আগে বিয়ে করেছিল মমতা মুরারিকে। তাদের ঘরে গত সাড়ে তিন মাস আগে একটি ফুটফুটে কন্যা সন্তানের জন্ম হয়। কন্যা সন্তান জন্ম হওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে উঠে রাক্ষসরুপি পিতা গৌতম ঘোষ। বারবার সে তার স্ত্রীকে কন্যা সন্তানটি ২০ হাজার টাকার বিনিময়ে বিক্রি করার প্রস্তাব দেয়।

তাতে তার স্ত্রী রাজি না হওয়ায় সাড়ে তিন মাসের এই ছোট্ট কন্যা সন্তানটিকে মারধর করে রাক্ষসরুপি পিতা গৌতম ঘোষ। পরে অসহায় মা মমতা মুরারি অবুঝ কন্যা সন্তানের প্রাণ বাঁচাতে গত পহেলা বৈশাখের দিন বাড়ি থেকে বের হয়ে যায়। পরে যুব প্রেরণা সামাজিক সংস্থার চোখে পড়ে এই অসহায় মহিলা সহ তার কন্যা সন্তানটিকে। তখন ওই সামাজিক সংস্থার পক্ষ থেকে ওই অসহায় মহিলা সহ তার ছোট্ট কন্যা সন্তানটিকে আশ্রয় দেওয়া হয় তাদের কাছে এবং পরবর্তী সময়ে যুব প্রেরণা সামাজিক সংস্থার সদস্যরা বোধজংনগর থানায় ঘটনাটি জানায় এবং সকালে ওই সামাজিক সংস্থার সহযোগিতায় অভিযুক্ত রাক্ষসরুপি পিতা গৌতম ঘোষকে খয়েরপুর স্থিত তার নিজ বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে আসে পুলিশ। পরবর্তী সময় ত্রিপুরা শিশু সুরক্ষা ও অধিকার কমিশন এবং ডিস্ট্রিক্ট চাইল্ড প্রটেকশন ইউনিটের আধিকারিকরা আগরতলা শহরের রাধানগর স্থিত একটি বেসরকারি হোমে গিয়ে ওই শিশুটির মায়ের সাথে কথাবার্তা বলে এবং শিশুটির শারীরিক খোঁজখবর নেন। শিশু সুরক্ষা ও অধিকার কমিশনের পক্ষ থেকে জানা গেছে মা ও শিশুটিকে সরকারিভাবে হোমে নিয়ে যাওয়া হবে। এদিকে অভিযুক্ত রাক্ষসরুপি পিতা গৌতম ঘোষ সামাজিক সংস্থার প্রশ্নের মুখে পড়ে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছে। অন্যদিকে, ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী ডাক্তার মানিক সাহা ওনার নিজের সামাজিক মাধ্যমে এই ঘটনাটির উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং এই ধরনের ঘটনায় অভিযুক্ত রাক্ষসরুপি পিতা গৌতম ঘোষের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি উঠছে সর্বত্র।

